প্রকাশ: সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫, ৯:০০ পিএম

ফাইল ছবি
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার (ডিআইটিএফ) নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। আগামী বছর থেকে এর নতুন নাম হবে ঢাকা বাণিজ্য মেলা (ডিটিএফ)। দীর্ঘদিনের প্রচলিত নাম থেকে বাদ যাচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক’ শব্দটি।
আজ সোমবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) কার্যালয়ে সংস্থাটির ১৪৮তম পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) আবদুর রহিম খান, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং মেট্রো চেম্বারের সভাপতি কামরান তানভীর রহমানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই ডিআইটিএফ আয়োজন করা হলেও বাস্তবে অনেক প্রতিষ্ঠান স্থানীয় এজেন্টের মাধ্যমে অংশ নেয়। এতে পণ্যের গুণগত মান যাচাই করা যায় না এবং ক্রেতারা অনেক সময় প্রতারিত হন। ফলে প্রদর্শনীর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতেই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যদিও পরিচালনা পর্ষদের অনেক সদস্য এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন, তবে চেয়ারম্যান শেখ বশিরউদ্দীন ও ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন নাম পরিবর্তনে অনড় ছিলেন। আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “পরিচালনা পর্ষদের পর্যবেক্ষণে এসেছে—নামে আন্তর্জাতিক হলেও প্রকৃত অর্থে এটি আন্তর্জাতিক মেলা নয়। তাই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।”
তবে নাম পরিবর্তনের পরও দীর্ঘদিন ধরে ডিআইটিএফে অংশ নেওয়া তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতেও স্টল পাবে। একই বৈঠকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আন্তর্জাতিক মেলার ক্যালেন্ডার এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আংশিক ক্যালেন্ডার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সভায় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “আমাদের অংশগ্রহণ যেন দেশের উন্নয়নে সহায়ক হয় এবং ব্যবসার সম্প্রসারণ ঘটায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।”
এ ছাড়া বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণ ও বাজার বহুমুখীকরণ কৌশলের অংশ হিসেবে ইপিবি আগামী নভেম্বরে ‘সোর্সিং বাংলাদেশ ২০২৫’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক সোর্সিং ফেয়ার আয়োজনের অনুমোদন দিয়েছে।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, “সোর্সিং মেলা না করলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশি পণ্যের পরিচিতি বাড়বে না। আমাদের সক্ষমতাও তৈরি হবে না।” এজন্য বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে প্রচারণা জোরদারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর