প্রকাশ: সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫, ৫:৪৮ পিএম

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ সাম্প্রতিক ভয়াবহ বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কয়েকদিনের বন্যায় অন্তত ৬১টি সরকারি স্কুল পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৪১৪টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ধ্বংসপ্রাপ্ত স্কুলের মধ্যে ৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাতটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং দুটি উচ্চ বিদ্যালয়। ক্ষয়ক্ষতির আরও বিস্তারিত তথ্য আসার সঙ্গে সঙ্গে সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাম্প্রতিক বন্যায় পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে স্কুলগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দির লোয়ারে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে, যেখানে ১৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া, শাংলায় আটটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং হরিপুরে ২৯টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুনের জেলায় অন্তত ১৭টি স্কুল বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতি শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
দুর্যোগে বুনের জেলায় চারজন শিক্ষক এবং একজন স্টাফ নিহত হয়েছেন, এছাড়া আরও তিনজন শিক্ষক আহত হয়েছেন। দুর্যোগে চারজন শিক্ষার্থীরও মৃত্যু হয়েছে।
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ খালিদ জানিয়েছেন, “আমরা যে কোনো উপায়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাব।” ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত মোকাবিলার জন্য তারা প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড স্কুল স্থাপনের বিকল্প বেছে নেবেন। প্রয়োজন হলে এক বা দুই মাসের মধ্যে এই ধরনের স্কুল তৈরি করা সম্ভব। ইতিমধ্যেই প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে ৫০টি প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড স্কুল স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট দুর্যোগে সরকারি স্কুলের অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তারা ২০০৫ সালের হাজারা ভূমিকম্প এবং সন্ত্রাসবাদের সময়ের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখ করেছেন।
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে কয়েকদিনের মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ৩৫০ ছাড়িয়ে গেছে। শুধুমাত্র খাইবার পাখতুনখোয়ায় মারা গেছেন অন্তত ৩২৮ জন।
সূত্র: ডন
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ