প্রকাশ: রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৫, ৪:০৯ পিএম

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) স্পষ্ট নির্দেশনা উপেক্ষা করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) প্রশাসন আরও তিনটি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। ইউজিসির অনুমতি ছাড়াই এ নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, আগামী ১৮ আগস্ট ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে শিক্ষা ছুটির বিপরীতে অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড বসার কথা রয়েছে। এছাড়া ২০ আগস্ট গণিত বিভাগে এবং ২১ আগস্ট ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে অস্থায়ী ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য বোর্ড আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
কিন্তু এসব অস্থায়ী পদে নিয়োগ দিতে হলে ইউজিসির অনুমোদন বাধ্যতামূলক। ইউজিসির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো অনুমোদন বেরোবি প্রশাসন নেয়নি।
এর আগে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে একইভাবে শিক্ষা ছুটির বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড আহ্বান করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর চাপের মুখে সেই বোর্ড স্থগিত করা হয়।
ইউজিসির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য জারি করা নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, খণ্ডকালীন ও শিক্ষা ছুটির বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাবে না। একান্ত প্রয়োজন হলে অবশ্যই ইউজিসির অনুমতি নিতে হবে, অন্যথায় এ খাতে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে না। এছাড়া বর্তমান উপাচার্যের সময়ে ইতিমধ্যে দুটি বিভাগের অস্থায়ী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি স্থগিত রাখারও পরামর্শ দিয়েছিল ইউজিসি।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জুলাই আন্দোলনের সামনের সারির অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী এস এম আশিকুর রহমান বলেন, “২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পরও ইউজিসির নির্দেশনা অমান্য করে শিক্ষক নিয়োগ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটি শিক্ষার্থীদের ত্যাগের প্রতি অবমাননা এবং উচ্চশিক্ষায় স্বচ্ছতার জন্য বড় হুমকি। যদি প্রশাসন দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্য চালিয়ে যেতে চায় তবে ছাত্রজনতা তা প্রতিহত করবে।”
অন্যদিকে উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী বলেন, “আমি অনেক আগেই সার্কুলার দিয়েছিলাম, পরে ইউজিসি পরিপত্র জারি করেছে। এখনো বোর্ড গঠন চূড়ান্ত হয়নি। সিন্ডিকেটে অনুমোদনের মাধ্যমে নিয়োগ চূড়ান্ত হবে।”
এ বিষয়ে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. তানজিম উদ্দিন জানান, “খণ্ডকালীন বা পূর্ণকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিতে হলে অবশ্যই ইউজিসির অনুমতি নিতে হয়। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ