প্রকাশ: শনিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৫, ১১:১৪ AM

সংগৃহীত ছবি
হঠাৎ মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে পাকিস্তান। বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যাওয়া এবং বড় ধরনের ভূমিধসের কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে।
মাত্র দুই দিনেই অন্তত ২০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে খাইবার পাখতুনখোয়ার বুনের, বাজাউর এবং বাটগ্রামে।
আজ শনিবার (১৬ আগস্ট) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া অতিভারী বর্ষণে বহু মানুষ ভূমিধসে চাপা পড়েছেন। কেবল বুনেরেই শুক্রবার পর্যন্ত ১৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে গাডেজি তহশিলের ১২০ জন। চাঘারজাই এলাকায় একটি ভবন ধ্বসের কারণে একই পরিবারের ২২ জন মারা গেছেন।
ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার সময় একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়, এতে দুই পাইলটসহ পাঁচজন নিহত হন। পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে ভূমিধসে আটজন নিহত হয়েছেন। নীলম ও ঝিলম উপত্যকায় প্রায় ৫০০ পর্যটক এখনো আটকা পড়েছেন।
দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে খাইবার পাখতুনখোয়াকে ‘বিপর্যস্ত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে।
খাইবার পাখতুনখোয়া বিপর্যয় মোকাবিলা এজেন্সি জানিয়েছে, শুধুমাত্র এ প্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ১৬৩ জন পুরুষ, ১৪ জন নারী এবং ১২ শিশু। হিগুকান্দ ও পীর বাবা এলাকায় বহু নারী-শিশু এখনও আটকা রয়েছেন। বন্যার পানিতে সম্পূর্ণ ভেসে গেছে আল মদিনা নামের একটি হোটেল।
জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীও উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন আশঙ্কা করছে, মৃতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ এমএএম