
সংগৃহীত ছবি
আজ থেকে চট্টগ্রাম বন্দর নগরী থেকে রাজধানী ঢাকায় পেট্রোলিয়াম সরবরাহ শুরু হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ১৬ আগস্ট থেকে ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ তেল পাইপলাইনটি চালু করতে যাচ্ছে।
সেনাবাহিনীর প্রকৌশলীদের সহায়তায় প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাইপলাইনটি নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।
পাইপলাইন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে বিপিসি।
মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান আজ শনিবার (১৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম পয়েন্ট থেকে প্রধান অতিথি হিসেবে পাইপলাইন উদ্বোধন করবেন।
প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, আগে তেল পরিবহনের জন্য ট্যাঙ্কারে লোডিং ও আনলোডিং প্রক্রিয়ায় দুইবার সময় ব্যয় হত। এখন পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিবহন করা হলে সময় কমবে এবং দূষণও হ্রাস পাবে।
পাইপলাইনটি পতেঙ্গা থেকে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল পর্যন্ত ২৪১ কিলোমিটার দীর্ঘ, যেখানে ১৬ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। গোদনাইল থেকে ফতুল্লা পর্যন্ত ৮.২৯ কিলোমিটারের একটি পৃথক ১০ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। ভূগর্ভস্থ এই পাইপলাইন ২২টি নদী ও খালের নিচ দিয়ে গেছে।
এর আগে, বাংলাদেশ–ভারত মৈত্রী পাইপলাইন ভারত থেকে ডিজেল আমদানি করতে নির্মাণ করা হয়েছিল।
বিপিসি কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে তারা সমুদ্র থেকে অপরিশোধিত তেল খালাসের জন্য আরেকটি পাইপলাইন নির্মাণ করছেন।
তেল ট্যাঙ্কারগুলো চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরে পৌঁছাতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় নিত। তবে পাইপলাইনের মাধ্যমে এটি মাত্র চার ঘণ্টায় পৌঁছাবে।
বর্তমানে বিপিসি প্রতি বছর ট্যাঙ্কারে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় তেল পরিবহনে ৩২৬ কোটি টাকা ব্যয় করে। পাইপলাইন চালু হলে খরচ হবে ৯০ কোটি টাকা, ফলে বার্ষিক কমপক্ষে ২২৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।
পাইপলাইন চালু হলে তেল চুরিও কমবে। এছাড়া প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তেল পরিবহনে যে সমস্যা দেখা দিত, তা এ পাইপলাইন সমাধান করবে।
উল্লেখ্য, প্রকল্পটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪তম ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড বাস্তবায়ন করেছে। তারা পরিবহন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য কম্পিউটারাইজড সুপারভাইজরি কন্ট্রোল অ্যান্ড ডেটা অ্যাকুইজিশন (SCADA) সিস্টেম ইনস্টল করেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ এমএএম