
সংগৃহীত ছবি
নারী ও পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা নিয়ে কিছুটা প্রভেদ রয়েছে। একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর নারী দেহে ‘মেনোপজ’ আসে। বন্ধ হয়ে যায় ডিম্বাণু উৎপাদন। ফলে আর মা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে এমনটা হয় না। পুরুষদের দেহে শুক্রাণু উৎপাদন কখনো বন্ধ হয় না। ফলে তারা প্রায় যেকোনো বয়সেই বাবা হতে পারেন। কিন্তু পাশাপাশি একথাও সত্য যে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা কমতে থাকে।
উল্লেখ্য, প্রজনন ক্ষমতা কমে যাওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, তবে এটি সংশ্লিষ্ট
ব্যক্তির জীবনযাত্রা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপরও নির্ভর করে।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা,
পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ কমানো প্রজনন ক্ষমতাকে ভালো রাখতে সাহায্য করতে
পারে।
এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং এর পেছনে কিছু বিজ্ঞানসম্মত কারণ রয়েছে। চলুন, দেখে নেওয়া যাক কেন এমনটা হয়?
শারীরিক পরিবর্তনশুক্রাণুর সংখ্যা হ্রাস : বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের উৎপাদন কমতে থাকে। এর ফলে শুক্রাণুর সংখ্যাও কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী পুরুষদের তুলনায় ৩৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ কম থাকে।
গুণগত মান হ্রাসঃ শুধু শুক্রাণুর সংখ্যা কমা নয়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুক্রাণুর গুণগত মানও কমে যায়। শুক্রাণুর ডিএনএ-এর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যায়, যা ভ্রূণের বিকাশে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
অন্যান্য স্বাস্থ্যগত সমস্যাঃ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপের মতো স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই রোগগুলোও প্রজনন ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
জীবনযাত্রার প্রভাব
ধূমপান ও অ্যালকোহলপানঃ ধূমপান ও অ্যালকোহলপান উভয়ই শুক্রাণুর গুণগত মান কমিয়ে দিতে পারে।
মানসিক চাপঃ মানসিক চাপেও শুক্রাণুর উৎপাদন কমে যায়।
অতিরিক্ত ওজনঃ অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতাও প্রজনন ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
তাই বয়স বাড়লে এই অভ্যাসগুলো থেকে দূরে থাকাই ভালো। তবে, এর মানে এই নয় যে বেশি বয়সে পুরুষরা বাবা হতে পারবেন না। অনেক পুরুষ ৫০ বা ৬০ বছর বয়সেও সুস্থ সন্তানের বাবা হয়েছেন।
সূত্রঃ আজকাল