প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫, ১০:২৬ পিএম আপডেট: ১৪.০৮.২০২৫ ১০:৩০ PM

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মেঘনা নদী এখন অবৈধ অস্ত্রের মহড়া ও বালু সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। চরলাপাং, মানিকনগর, সাহেবনগরসহ নদীতীরবর্তী অসংখ্য গ্রামে দিন-রাত শতাধিক খননযন্ত্রের গর্জনে ফসলি জমি, মসজিদ-মাদ্রাসা ও শত শত ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার অপেক্ষায়।
রবিবার (১০ আগস্ট) বিকেলে সোনারগাঁও থেকে সলিমগঞ্জের গণিশাহ মাজারে ওরশে যাওয়ার পথে দড়াভাঙ্গা এলাকায় একটি ট্রলার বালুবোঝাই ড্রেজারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ডুবে যায়। এ ঘটনায় প্রাণ হারান আশরাফ উদ্দিন (৪৪)।
সরকারি নথি অনুযায়ী, নাসিরাবাদ বালুমহাল ১৪৩২ বঙ্গাব্দ মেয়াদে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত ৮ কোটি ৯৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছে সাহেবনগরের শাখাওয়াত হোসেনের প্রতিষ্ঠান মেসার্স সামিউল ট্রেডার্স। কিন্তু ইজারার শর্ত মানা হচ্ছে না; বরং রাতদিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। এতে জড়িত রয়েছে পার্শ্ববর্তী উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ‘স্বর্ণমহল’ এলাকায় চলছে সশস্ত্র পাহারা, আর প্রতিবাদ করলেই জীবন হুমকির মুখে পড়ে। সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা মেহেদি হাসান সতর্ক করে বলেন, “এখনই প্রতিরোধ না গড়লে চরলাপাং, মানিকনগরসহ আশপাশের গ্রামগুলো মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইজারাদার শাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, “আমরা সরকারি নিয়ম মেনেই কাজ করছি। অস্ত্র মহড়া বা রাতের বালু উত্তোলনের অভিযোগ ঠিক নয়। প্রশাসনকে বলেছি, রাতে কোনো ড্রেজার চললে জব্দ করতে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব চৌধুরী জানান, অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে অভিযান পরিচালনায় জটিলতা আছে, কারণ এলাকায় মাঝে মাঝে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে শিগগিরই যৌথ বাহিনী নিয়ে অভিযান চালানো হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ