প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫, ৯:৫৬ AM

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের টানা হামলায় একদিনেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০০ ফিলিস্তিনি। এর মধ্যে শুধু গাজা সিটিতেই নিহত হয়েছেন ৬১ জন। এছাড়া ত্রাণ সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি হামলায় আরও ৩৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
চিকিৎসা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার ভোর থেকে শুরু হওয়া বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ গাজা সিটির উত্তরাঞ্চলে আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। সেখানে অসংখ্য আবাসিক ভবন ও জনসমাগমস্থল লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালায়, যাতে ৬১ জন প্রাণ হারান।
এছাড়া উত্তর গাজায় একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের কাছে মানবিক সহায়তা নিতে আসা লোকজনের ওপর চালানো হামলায় ১২ জন নিহত হন। একইদিনে দক্ষিণ গাজার রাফাহ এলাকায় আরেকটি ত্রাণ লাইনে গুলিতে প্রাণ যায় আরও ১৬ জনের।
গাজার জরুরি ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা বিভাগ জানিয়েছে, ওই দিন ত্রাণের জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের ওপর ইসরায়েলি গুলিতে মোট ১৪ জন নিহত এবং ১১৩ জন আহত হন। সব মিলিয়ে, ত্রাণ সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি হামলায় ৩৭ জন নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বুধবার বলেছেন, ‘গাজার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ‘ঔষধহত্যা’ -এর সমতুল্য। তারা ইসরায়েলকে ইচ্ছাকৃতভাবে আক্রমণ করে এবং ছিটমহলের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, প্যারামেডিক এবং হাসপাতালগুলিকে অনাহারে রাখার অভিযোগ এনেছে।’
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, একটি চলমান গণহত্যার সাক্ষী থাকার পাশাপাশি, আমরা একটি ‘ঔষধহত্যা’রও সাক্ষী হচ্ছি, যা গাজায় ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করা পরিস্থিতির একটি ভয়াবহ উপাদান, যা গণহত্যার একটি কাজ।
স্বাস্থ্য অধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত ত্ল্যালেং মোফোকেং এবং ১৯৬৭ সাল থেকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজ বলেন, মানুষ এবং জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ হিসেবে, গাজায় আমাদের চোখের সামনে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কে আমরা চুপ থাকতে পারি না।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম