প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৫৪ পিএম আপডেট: ১২.০৮.২০২৫ ৮:০২ PM

ভালুকায় বিদেশি ফল রামবুটানের চাষ করে দেশে কৃষির বৈচিত্র্য ও সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন শেখ মামুন ও আশরাফ সোবাহ নামে দুই উদ্যোক্তা।
ময়মনসিংহের ভালুকায় এই বিদেশি ফল রামবুটানের পরীক্ষামূলক চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন ঢাকা মধ্য বাড্ডার এই দুই যুবক।
উপজেলার গোয়ারি গ্রামে ২০ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে গড়ে তুলেছেন এ ব্যতিক্রমধর্মী ফলের বাগান, যা ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মাঝে কৌতূহল ও আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, ২০২০ সালে বিদেশ সফরকালে রামবুটান ফল দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশে ফিরে তারা ৫ বিঘা জমিতে প্রায় ৪০০টি রামবুটান চারা রোপণ করেন। পাশাপাশি বাকি জমিতে পার্সিমন, সুপার বাগুয়ানা, লংগান, সিডলেস লিচু, হোয়াইট জাম্বু, আম মিয়াজাকি, বারোমাসি কাঁঠালসহ বেশ কয়েকটি বিদেশি ফলের সমন্বিত চাষ শুরু করেন। প্রথম দিকে নানা প্রতিকূলতায় কিছু গাছ নষ্ট হলেও প্রায় ২০০ গাছ বেঁচে যায়। পরে স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে ভার্মি কম্পোস্ট সার প্রয়োগ করলে ফলন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে।
বাগানে নিযুক্ত কেয়ারটেকার সোহেল রানা জানান, রামবুটান দেখতে যেমন চমকপ্রদ, খেতেও সুস্বাদু। পুষ্টিগুণেও ভরপুর। প্রতি গাছে ফল ধরার পর তা পরিপক্ব হতে সময় লাগে প্রায় ৪ মাস। ফলের খোসা শক্ত হওয়ায় এটি প্রায় ১ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে। রোগবালাই কম, পাখি বা বাদুরেও খুব একটা ক্ষতি করতো না।
তিনি আরও জানান, গত মৌসুমে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পুরো ফল বাজারজাত করা না গেলেও প্রায় ২২ লাখ টাকার বিক্রি হয়েছে। সব বিক্রি করতে পারলে প্রায় ৫০ লাখ টাকার আয় সম্ভব হতো।
ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান বলেন, ভালুকার মাটি রামবুটান চাষের জন্য উপযোগী। উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে কলমের মাধ্যমে চারা উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এ ধরনের ব্যতিক্রমী চাষে আগ্রহীদের সহায়তা দিতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে