প্রকাশ: সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫, ৬:৫২ পিএম আপডেট: ১১.০৮.২০২৫ ৭:০৬ PM

টাঙ্গাইলের নাগরপুর-শাহজানী গয়হাটা ভায়া সড়কের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ শুরু হলেও মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে দুই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান — মেসার্স কৃষ্ণা স্টুডিও ও এম/এস নাইস ট্রেডার্স — সাইট ছেড়ে চলে যাওয়ায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্ষার পানিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খাঁজ ও গর্ত তৈরি হয়ে পানি জমে রয়েছে। এর ফলে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা কাঁদা জল পেরিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, কেউ কেউ স্কুলে পৌঁছাতে না পেরে ফিরে আসছেন। রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য হাসপাতালে যাওয়া এখন একপ্রকার দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, “বাজারে যেতে কাদা-পানির মধ্যে হাঁটতে হয়। আমার বয়স বেশি, পড়ে গেলে ওঠা মুশকিল।”
ব্যবসায়ী আলিম মিয়া জানান, “পণ্য পরিবহনের সময় ট্রাক-ভ্যান গর্তে আটকে যায়। সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে পারছি না, ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে টাঙ্গাইল নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে দুইটি কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। এর মধ্যে মেসার্স কৃষ্ণা স্টুডিওকে ৪৫০০ মিটার থেকে ৮৬৮৫ মিটার পর্যন্ত মোট ৪.১৮৫ কিলোমিটার অংশের কাজ এবং এম/এস নাইস ট্রেডার্সকে ০ থেকে ৪৫০০ মিটার পর্যন্ত মোট ৪.৫ কিলোমিটার অংশের কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
দুই প্রতিষ্ঠানের মোট চুক্তিমূল্য প্রায় ৯৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। কাজ শুরু হয় ২ অক্টোবর ২০২৪ এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ৩০ এপ্রিল ২০২৫। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে অগ্রগতি না রেখে তারা কাজ বন্ধ করে দেয়।
এলজিইডি প্রকৌশলী মো. তোরাপ আলী জানান, “দুই ঠিকাদারকে বারবার তাগিদ দিয়েও কাজ করানো যায়নি। নতুন ঠিকাদার নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত মোহাম্মদ নোমান বলেন, “বিষয়টি আগে জানতাম না। এখন গুরুত্ব সহকারে যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত সড়ক সংস্কারের জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ