প্রকাশ: শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৫, ৪:৫৪ পিএম

গজারিয়া উপজেলার এসডি খান সড়কের সংস্কার ও গত বৃহস্পতিবার জামালদী এলাকায় ট্রেইলর ট্রাকের চাপায় নিহত শিশু শিক্ষার্থী সারাফাত (৫) হত্যার বিচার দাবি করে এলাকাবাসী মহাসড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেছেন।
কর্মসূচীর আয়োজক ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার হোসেন্দী ইউনিয়নের এসডি খান সড়কে প্রাইভেটে যাওয়ার পথে শিশু সারাফাত (৭) ট্রাকের চাপায় নিহত হন। এ ঘটনায় অপর শিশু জামিয়া আক্তারও আহত হয়। নিহত সারাফাতের বাবা মফিজ মিয়া গজারিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন এবং অভিযুক্ত ট্রাক চালক ও তার সহকারী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
সারাফাতের দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর পাশাপাশি খানাখন্দে ভরা সড়ক সংস্কারের দাবিতে হোসেন্দী ইউনিয়নবাসী উত্তাল হয়ে উঠেছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে প্রায় ২৫ মিনিট কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী যানবাহনের চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। পরে পুলিশ এসে মানববন্ধনকারীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
এরপর এসডি খান সড়ক সংলগ্ন ‘শুকরিয়া মার্কেটের’ সামনে স্থানীয়দের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, জামালদী–হোসেন্দী (এসডিখাঁন) সড়কটি খানাখন্দে ভরা থাকায় দীর্ঘদিন ধরে সড়ক সংস্কার না হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। দুটি গার্ডার সেতুর নির্মাণ কাজও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে, যা যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে।
স্থানীয় শিল্প কারখানার মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতি ও নিয়ন্ত্রণহীন চলাচলজনিত কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
মানববন্ধনে এলাকার মানুষ পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করেন:
নিহত সারাফাতের ঘাতকের দ্রুত বিচার এবং পরিবারের জন্য ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল বন্ধ করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সড়কের ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নসহ দ্রুত সংস্কার ও মেরামত করতে হবে। সড়কে পুলিশি টহল জোরদার করতে হবে। সকাল ছয়টা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত ভারী যানবাহনের চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ