প্রকাশ: শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৫, ২:৫৫ পিএম

ভারতের হিমাচল প্রদেশের সিরমৌর জেলার দুই ভাই—প্রদীপ নেগি ও কপিল নেগি—সম্প্রতি একই নারীকে বিয়ে করে আলোচনায় এসেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নানা সমালোচনা হলেও, তারা বলছেন—এটি তাদের হট্টি সম্প্রদায়ের প্রাচীন ঐতিহ্যের অংশ, আর এই প্রথা ধরে রাখতে পেরে তারা গর্বিত।
গত জুলাই মাসে সিরমৌরের শিলাইয়ের কুনহাট গ্রামের সুনীতা চৌহানকে স্থানীয় ‘জোড়িদার প্রথা’ অনুসারে বিয়ে করেন দুই ভাই। ফেসবুক ভিডিও বার্তায় প্রদীপ নেগি জানান, এই প্রথা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে।
সমালোচনা নিয়ে তার মন্তব্য, “কিছু মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের নিয়ে কটূক্তি করছে, তাতে আমার কিছু যায় আসে না।”
প্রদীপ দাবি করেন, এই প্রথা শুধু তাদের গ্রামেই নয়, উত্তরাখণ্ডের জৌনসার-বাবর এলকায়ও প্রচলিত, যেখানে একই নারীর সঙ্গে দুই বর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কপিল নেগি যোগ করেন, তাদের বিয়ে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় হয়েছে এবং উভয়ের পরিবার ও সমাজ এটি মেনে নিয়েছে।
প্রদীপ আরও বলেন, “আমরা নিম্ন আয়ের পরিবার থেকে উঠে এসেছি, জমিজমাও কম। তারকাখ্যাতির লোভে নয়, বরং ভালোবাসা ও একসঙ্গে থাকার ইচ্ছাতেই এই বিয়ে। দয়া করে আমাদের সমালোচনা করবেন না।”
এনডিটিভির তথ্যমতে, গত ১২ জুলাই ট্রান্স-গিরি এলাকায় তিন দিনব্যাপী বিয়ের অনুষ্ঠান হয়, যেখানে গান, লোকনৃত্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
উল্লেখ্য, হিমাচল ও উত্তরাখণ্ড সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী হট্টি জনগোষ্ঠীকে তিন বছর আগে ভারতে ‘তালিকাভুক্ত উপজাতি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পার্বত্য কৃষক সমাজে জমি ভাগ হয়ে যাওয়া রোধ করতেই মূলত ‘জোড়িদার প্রথা’ চালু ছিল। এ ধরনের বিয়েতে জন্ম নেওয়া সন্তানের আইনি পিতা হিসেবে সাধারণত বড় ভাইকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ