
আমরা চাই এই ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ দলিল যেন আমাদের জন্য অলংকারিক বস্তু হয়ে না থাকে
রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা সাপেক্ষে সনদের আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন
প্রক্রিয়ার সুরাহা হওয়া জরুরি। আমরা যেন ইতিহাসের পিছনের দিকে চলে না
যাই, ১৯৯০ ও ২০০৮ এর অভিজ্ঞতা ভুলে না যাই। যেটা ঐকমত্যের ভিত্তিতে এখনই
করা সম্ভব, সেটা ৫/৬ বার পিছিয়ে নেবার চেষ্টা ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি বলে জানিয়েছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
আজ শনিবার (৯ আগস্ট) জুলাই ঘোষণাপত্র, সনদ বাস্তবায়ন ও জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মিডিয়া ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে এবি পার্টি। দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এবি পার্টির পক্ষ থেকে বক্তব্য উপস্থাপন করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
এসময় ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, “এত বড় অবিস্মরণীয় গণঅভ্যুত্থানের পর একটা ঘোষণাপত্র দিতে পেরে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত। কিন্তু এর বক্তব্য, গাঠনিক শৈলী, অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তি পুরনো ধাঁচের হয়েছে। ঔপনিবেশিক যুগের মুক্তিসংগ্রাম, মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট, শাহবাগে ফ্যসিবাদের উত্থান পর্ব, ৫ই মে’র জাগরণ ও আলেমদের উপর গণহত্যা, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, কোটা সংস্কার থেকে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, রাষ্ট্র মেরামতের জনআকাঙ্ক্ষা হয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের দৃঢ় প্রত্যয়ের স্মৃতিমণ্ডিত ইতিহাস ঘোষণাপত্রে আরো স্পষ্টত উল্লেখ থাকবে বলে আমরা আশা করেছিলাম।”
তিনি বলেন, “আমরা চাই এই ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ দলিল যেন আমাদের জন্য আলংকারিক বস্তু হয়ে না থাকে। সহস্রাধিক শহীদের প্রাণ ও লক্ষ কোটি হৃৎপিণ্ডের রক্ত বিধৌত এই দলিল আমাদের অত্যাবশ্যকীয় পালনীয় নির্দেশিকা আকারে যেন থাকে। আমরা যেন যথাযথভাবে এটা মেনে চলি। সেই অঙ্গীকারটাই মূলত বেশী গুরুত্বপূর্ণ। রমজানের আগে ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনের ঘোষণাকে আমরা স্বাগত জানাই। নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য ফ্যাসিবাদীদের বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের নিশ্চয়তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তা নাহলে নির্বাচন নিয়ে সংশয় ও অনিশ্চয়তা কাটবেনা বলে আমরা মনেকরি।”
ঘোষনাপত্রকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এবি পার্টি জুলাই ঘোষণাপত্রকে স্বাগত জানায় তবে একইসাথে মনে করে যে এই ঘোষণাপত্র গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও জনগণের স্বপ্ন ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।”
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা টেনে তিনি বলেন, “এবি পার্টি ঐকমত্য কমিশনকে ধন্যবাদ জানায় তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার জন্য। সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে অব্যাহত আলোচনা করে ঐকমত্যে পৌঁছার চেষ্টা মোটেই সহজসাধ্য ছিল না। তারপরেও অনেক বিষয়ে দ্বিমত স্বত্বেও গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু জাতীয় ইস্যুতে আমরা একমত হতে পেরেছি। জুলাই সনদের যে সকল বিষয়ে সকল রাজনৈতিক দল একমত পোষণ করেছে সেগুলো স্বাক্ষরিত হওয়ার পরপরই বাস্তবায়ন শুরু হওয়া দরকার।”
এবি পার্টি ত্রয়োদশ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণাকে সতর্কতার সাথে স্বাগত জানায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর নির্বাচন নিয়ে কোন শঙ্কা বা অনিশ্চয়তা কখনোই এবি পার্টির ছিল না। তবে, বিচার ও সংস্কারের পরিষ্কার পথনকশা জরুরি যেন ঐকমত্যের ভিত্তিতে আগামী সরকারও এগুলো সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা নিয়ে আমরা এখনো পুরোপুরি আস্থাশীল নই। প্রায় এক বছর হতে চলেছে কিন্তু রাজনৈতিক দল বা অংশীজনদের সাথে নির্বাচন নিয়ে সংলাপের কোন আয়োজন বা উদ্যোগ আমরা এখনো দেখতে পাচ্ছি না। নির্বাচন সংস্কার কমিশনের অনেক সুপারিশ তারা বাস্তবায়নে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে যেটা দুঃখজনক। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির পুরো লাগাম টেনে ধরতে পারেনি। নির্বাচন ঘনিয়ে আসতে আসতে তৃণমূলের চিত্র পাল্টে যাবে এবং তখন সরকার ও নির্বাচনী প্রশাসন আরো বেশী বেকায়দায় পড়বার শঙ্কা রয়েছে।”
এদিন মিডিয়া ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল
মামুন রানা, আনোয়ার সাদাত টুটুল, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, মহানগর
দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ আহমেদ নাসির, উত্তরের সদস্য সচিব সেলিম খান,
কেন্দ্রীয় নেতা আবু রাইয়ান আশয়ারী রছি।
এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, এবি যুবপার্টি ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব শাহিনুর আক্তার শীলা,ওয়ারী থানা সদস্য সচিব নুরুন্নবী, নারী নেত্রী ফেরদৌসী আক্তার অপি, ইসরাত জাহান লিজা ও যুব পার্টি মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব মিরাজুল ইসলাম শান্ত, যুব পার্টির যাত্রাবাড়ী থানার সদস্য সচিব জুয়েল রানা প্রমুখ।