প্রকাশ: শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৫, ১০:৫৬ AM

সংগৃহীত ছবি
বিদায়ি অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) আগের তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় তৈরি পোশাক রপ্তানি ১১.৯২ শতাংশ কমে গেছে। যদিও সার্বিকভাবে দেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে। পোশাক রপ্তানিতে এই হ্রাসের পেছনে রয়েছে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ সংক্রান্ত অস্থিরতা এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মচারীদের ধর্মঘট, যা রপ্তানি কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার (০৭ আগস্ট) রাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ওই সময়ের মধ্যে দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৯১১ কোটি ডলার। এই সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও বাণিজ্যনীতির পরিবর্তন পোশাক খাতকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৩৭ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ (পরে কমে ২০ শতাংশ) ঘোষণার কারণে বিদেশি ক্রেতারা আদেশ স্থগিত করে রপ্তানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
অবশেষে গত ৩১ জুলাই মার্কিন প্রশাসন বাংলাদেশসহ অনেক দেশের পণ্যের অতিরিক্ত শুল্ক হ্রাস করে এবং ২০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করে। এতে বাংলাদেশ ভিয়েতনাম, ভারত ও চীনসহ অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে আসে। যেখানে ভিয়েতনামের শুল্ক ২০ শতাংশ, ভারতের ৫০ শতাংশ এবং চীনের ৩০ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনবিআরের ধর্মঘট শুল্কায়ন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব সৃষ্টি করে, যা পণ্যের চালান প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা ঘটায় এবং পণ্যসম্ভারের সময়মতো পাঠানো ব্যাহত হয়। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রতিকূলতা, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যয় ও রপ্তানি বাজারের সীমিত বৈচিত্র্য রপ্তানি ক্ষেত্রে সমস্যার কারণ হিসেবে কাজ করেছে।
প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, ওই প্রান্তিকে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে মূল্য সংযোজন কিছুটা কমে ৫৬.৭৮ শতাংশ হয়েছে, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ৫৮.৯০ শতাংশ। এই সময়ে ৯১১ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানির বিপরীতে ৩৯৪ কোটি ডলারের কাঁচামাল আমদানি হয়েছে।