
সংগৃহীত ছবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ টি হলে ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার পরে নানা বিতর্ক সামনে আসছে। কমিটিতে এ পর্যন্ত চল্লিশেরও অধিক পদধারীর ছাত্রলীগ সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আজ শুক্রবার (৮ আগষ্ট) কমিটি ঘোষণার পরপরই বেশ কিছু নাম নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। তন্মধ্যে খালেদা জিয়াকে অপমানকারী ও এক দফার কবর দিতে চাওয়া ছাত্রলীগ কর্মীও ছাত্রদলে পদ পেয়েছেন।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ছাত্রদলের সদস্য আহমেদ জাবির মাহাম গত বছরের ৩ আগষ্ট এক দফা ঘোষণার দিনে ‘ফেসবুকে জনে জনে খবর দে, এক দফার কবর দে কমেন্ট’ করেছিলেন। এমনকি, তার ছাত্রলীগ সম্পৃক্ততার কারণে তার ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাকে ডিপার্টমেন্টে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছিল।
এছাড়াও, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রাজু শেখের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়াকে অপমান করার প্রমান পাওয়া গেছে। তিনি গত বছরের ৩ আগষ্ট ফেসবুকে শেখ হাসিনার বিকল্প হিসেবে খালেদা জিয়াকে চাওয়া নিয়ে লিখেছিলেন ‘মানুষ এত বলদ না।’
উপরিউক্ত দুজন ছাড়াও শামসুন্নাহার হলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নীতু রাণী সাহা পূর্বে হল ছাত্রলীগের উপ গণযোগাযোগ সম্পাদক পদে ছিলেন।
শহিদুল্লাহ হলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুল হাসান সৌরভ পূর্বে জীববিজ্ঞান অনুষদ ছাত্রলীগের সহ সভাপতি, স্যার এ এফ রহমান হলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন পূর্বে ছাত্রলীগের হলের সহ-সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও, জিয়াউর রহমান হলের যুগ্ম আহবায়ক আজীজুল হাকিম, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের যুগ্ম আহবায়ক শিবলী রহমান পাভেল ছাত্রলীগের সংসদীয় সমন্বয় টিমের সদস্য ছিলেন।
সেই সাথে, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের আহ্বায়ক আবু জর গিফারী ইফাত, ফজলুল হক মুসলিম হলের আহ্বায়ক মো. আবিদ হাসনাত, বেগম রোকেয়া হলের সদস্য সচিব আনিকা বিনতে আশরাফ, জহুরুল হক হলের সদস্য সচিব শাহরিয়ার লিয়ন, অমর একুশে হলের সদস্য সচিব আব্দুল হামিদ, কুয়েত মৈত্রী হলের সদস্য সচিব জান্নাতুল ফেরদৌস পুতুল, সুফিয়া কামাল হলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জাকিয়া সুলতানা আলো, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের যুগ্ম সদস্য সচিব রোমান মিয়া, বিজয় একাত্তর হলের যুগ্ম আহবায়ক আরকানুল ইসলাম রূপক, রাকিবুল ইসলাম রাকিব, মুহসীন হলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেরাজ শাহরিয়ার অপু, মহিবুল ইসলাম আকন্দ, শিবলী রহমান পাভেল, জনি প্রামাণিক, জহুরুল হক হলের যুগ্ম আহবায়ক হাসনাথ তারিক জীম, মো. রাসেল হোসেন, মো. সজীব হোসেন, জিয়াউর রহমান হলের যুগ্ম আহবায়ক তৌফিকুল ইসলাম প্রতিক, মাহমুদ হাসান, সুর্যসেন হলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মণ্ডল, মাহিদুল আলম ফাহিম, শেখ মুজিবুর রহমান হলের যুগ্ম আহবায়ক সাদমান সাকিব শাওন, মোমিতুর রহমান পিয়াল, আব্দুল্লাহ আল নোমান, মোস্তফা হোসেন লিখন এবং এ এফ রহমান হলের সদস্য বাদশাহ বিন ফাহাদ আলভী ও শহিদুল্লাহ হলের সদস্য মহিবুল মুক্তাদিরের পূর্বে ছাত্রলীগের বিভিন্ন প্রোগ্রাম করা ও অন্যান্য কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
এছাড়াও, কবি জসিমউদদীন হলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাহিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তবে ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছেন স্যার এ এফ রহমান হলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মেহেদী হাসান মুন্না।
জানা গেছে, শিপনের ছোট ভাই ২০২২-২৩ সেশনের মো. মাহদীজ্জামান জ্যোতিকে ওই হলের সদস্য সচিব বানানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মেহেদী বলেন, “২০২৪ সাল থেকে জাতীয়তাবাদী আদর্শ বুকে লালন করে রাষ্ট্রযন্ত্রের বুট-বুলেটের সামনে বুক চেতিয়ে দাঁড়িয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আন্দোলন পরবর্তী বিশাল বিশাল সুযোগ সুবিধার প্রস্তাবনা পাওয়া স্বত্ত্বেও মা, মাটি, মানুষ ঘিরে নিজের আদর্শ বিক্রি করিনি। অথচ আজকে আমার ত্যাগ, তিতিক্ষা এবং বিশ্বস্ততার প্রতিদান দিলেন ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন নেপোটিজম করে তার নিজের আপন ছোট ভাইকে আমার জায়গায় বসিয়ে।”
এ বিষয়ে ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহসের সাথে যোগাযোগ করলে সাংবাদিক পরিচয় শুনে তিনি ফোন কেটে দেন এবং ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।