প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৩৬ পিএম

ভারত সরকার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এর মধ্যে সম্প্রতি অনলাইন স্বাধীনতা ও সেন্সরশিপ নিয়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্মটির এই সংঘর্ষ গভীরতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সরকারের ক্ষমতার সীমা কোথায়?
২০২১ সালে ভারতের কৃষক আন্দোলনের সময় এক্স-এ আন্দোলনপন্থী নানা পোস্ট ভাইরাল হয়। মোদি সরকার এসব পোস্টকে “রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র” হিসেবে আখ্যা দিয়ে সেগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়। এক্স কর্তৃপক্ষ কিছু পোস্ট মুছে ফেললেও, সবগুলো নির্দেশ মানেনি। এর জেরে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এক্স-এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুমকি দেয়, এমনকি কর্মীদের গ্রেপ্তারের কথাও জানানো হয়।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইলন মাস্ক বলেন, “আমরা কখনও কখনও সরকারের নির্দেশ মানতে বাধ্য হই, কারণ তা না করলে আমাদের কর্মীরা বিপদে পড়তে পারেন। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে এসব আদেশের সঙ্গে একমত নই।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। কিন্তু অনেক সময় সরকার এমন কিছু করতে বলে, যা এই স্বাধীনতাকে সীমিত করে।”
সরকার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই ধরনের পোস্ট ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলার জন্য হুমকি তৈরি করে। তাই তারা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হচ্ছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারের হাতে অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের কতটুকু ক্ষমতা থাকা উচিত?
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করছে। তবে সমালোচকদের মতে, ভারতের এই পদক্ষেপ অনলাইন সেন্সরশিপের একটি ভয়ানক উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ