
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তিতে ‘গণহত্যাকারী’ হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নেটওয়ার্ক। তারা এই ঘটনার জন্য ইসলামী ছাত্র শিবিরের নিঃশর্ত ক্ষমা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দুঃখপ্রকাশ ও প্রক্টরের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে।
বুধবার (৬ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানায় সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের ওপর যারা অতীতে গণহত্যা চালিয়েছে, তাদের ছবি দিয়ে ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান করা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চূড়ান্ত অপমানজনক। এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার অবমাননা করা হয়েছে।”
তারা আরও উল্লেখ করেন, “যদিও একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষপাত এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় ত্রুটি ছিল, তবে গণহত্যার দায় প্রশ্নাতীত। বিচার নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু অপরাধের দায় থেকে কেউ মুক্ত হতে পারে না।”
প্রশাসনের ‘ব্যর্থতা’ ও প্রক্টরের ‘অযোগ্যতা’ তুলে ধরে তারা বলেন, “এমন একটি ঘটনা ৫ আগস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে সংঘটিত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মুক্তিযুদ্ধের সম্মান রক্ষা করাও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু আমরা দেখছি, তোফাজ্জল ও সাম্য হত্যাকাণ্ড, শেখ হাসিনার গ্রাফিতি মুছে ফেলা, চারুকলায় আগুন দেওয়া, যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আমলে না নেওয়াসহ একাধিক ঘটনায় প্রশাসন বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।”
শিক্ষক নেটওয়ার্ক আরও অভিযোগ করে বলেন, “বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আবারও সেই একই ঘৃণ্য অপচেষ্টা চালিয়েছে। তারা একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের ছবি দেখিয়ে বর্ষপূর্তিকে বিতর্কিত করেছে, যা মুক্তিযুদ্ধ ও ৫ আগস্টের চেতনার চরম অবমাননা। এর আগে তারা তাদের প্রকাশনায় মুক্তিযুদ্ধবিরোধী লেখা ছেপে বিতর্কে জড়িয়েছিল। এবারও তারা একই উদ্দেশ্যে কাজ করছে বলে আমরা মনে করি।”
শিক্ষক নেটওয়ার্কের পাঁচ দফা দাবি হলো—
১. ইসলামী ছাত্র শিবিরকে নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাইতে হবে এবং যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা কখনও না করার অঙ্গীকার করতে হবে।
২. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এই ঘটনার দায় নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি করতে হবে।
৩. গত এক বছরে বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
৪. ইন্টারনেট ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নারীদের হয়রানিতে জড়িত সংগঠন ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫. ক্যাম্পাসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে স্থায়ী উদ্যোগ নিতে হবে এবং শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও নিদর্শনসমূহ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর