বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
মক্কা বিজয়ের সময় নবীজি যাদের ক্ষমা করেননি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ আগস্ট, ২০২৫, ১১:০২ পিএম

ইসলামের ইতিহাসে মক্কা বিজয় এক অনন্য মাইলফলক। এই বিজয়ের মাধ্যমে ইসলামের গৌরব বৃদ্ধি পায়, হেরেম শরিফ এবং পবিত্র কাবা কাফেরদের দখলমুক্ত হয়, এবং মানুষের হৃদয়ে ইসলামের প্রতি বিশ্বাস দৃঢ় হয়। এর ফলেই মানুষ দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করতে শুরু করে।

বিজয়ের পটভূমি

হিজরি অষ্টম বর্ষের রমজান মাসের দশদিন পর রাসুলুল্লাহ (সা.) দশ হাজার সাহাবির একটি মুজাহিদ বাহিনী নিয়ে মক্কা অভিমুখে রওনা হন। যাবার আগে তিনি আবু রুহম কুলছুম বিন হুসাইনকে মদিনার দায়িত্বে রেখে যান।

মক্কা আক্রমণের কারণ ছিল কুরাইশদের দ্বারা হুদায়বিয়ার সন্ধি চুক্তি লঙ্ঘন। তারা নবীজি (সা.)–এর মিত্র খোযা গোত্রের ওপর অতর্কিতে হামলা চালিয়ে হত্যা করে, যা চুক্তি ভঙ্গের স্পষ্ট প্রমাণ।

বিজয়ের দৃশ্য

নবীজি (সা.) বিনা বাধায় মক্কায় প্রবেশ করেন। কাবা শরিফে গিয়ে তিনি তাওয়াফ করেন। তখন তার হাতে ছিল একটি ধনুক, যার সাহায্যে তিনি কাবার অভ্যন্তরে থাকা ৩৬০টি মূর্তি একে একে ভেঙে ফেলেন। তিনি তখন পবিত্র কুরআনের এই আয়াত পাঠ করছিলেন:

وَقُلْ جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ
إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا
বলুন, সত্য এসেছে এবং মিথ্যা মুছে গেছে। নিশ্চয়ই মিথ্যা ধ্বংস হবেই। (সুরা বনি ইসরাইল: ৮১)

কুরাইশদের সাধারণ ক্ষমা

কাবার ভেতর নামাজ আদায় শেষে রাসুল (সা.) কুরাইশদের সম্বোধন করে বলেন, “তোমরা কী ভাবো, আমি আজ তোমাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করব?” তারা বিনীতভাবে উত্তরে বলল, “আপনি আমাদের সম্মানিত ভাই, আপনি উত্তম আচরণ করবেন।” নবীজি (সা.) বললেন, “আজ তোমাদের কোনো অপরাধ নেই, তোমরা সবাই মুক্ত।”

তবে কিছু ব্যক্তিকে ক্ষমা করা হয়নি

তবে কিছু ব্যক্তি তাদের অপরাধের জন্য সাধারণ ক্ষমার আওতায় পড়েননি। মোট ১৫ জনকে এই তালিকায় রাখা হয়। তাদের অনেকেই ইসলাম ও নবীজির বিরুদ্ধে প্রচারণা, হত্যা বা গাদ্দারি করেছিল।

এই ১৫ জনের তালিকা:

১. আবদুল্লাহ ইবনে খাতাল
২. তার দুই দাসী – ফারতানা ও কারিনা
৩. সারাহ
৪. হুয়াইরিস ইবনে নুকাইদ
৫. মিকয়াস ইবনে সুবাবা
৬. আবদুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে আবি সারাহ
৭. ইকরামা ইবনে আবি জাহেল
৮. হাব্বার ইবনে আসওয়াদ
৯. কাব ইবনে জুহাইর
১০. ওয়াহশি ইবনে হারব
১১. হারিস ইবনে তুলাতিল
১২. আবদুল্লাহ ইবনে জিবারা
১৩. হুবাইরা ইবনে আবি ওয়াহাব
১৪. হিন্দ বিনতে উতবা

যাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়:
আবদুল্লাহ ইবনে খাতাল
তার দুই দাসীর মধ্যে একজন
সারাহ
হুয়াইরিস ইবনে নুকাইদ
মিকয়াস ইবনে সুবাবা
হারিস ইবনে তুলাতিল

হাদিসের ভিত্তি

হজরত সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি বলেন:

“এই চারজন পুরুষ ও দুই নারী, যদি কাবার গিলাফ আঁকড়ে ধরেও থাকে, তবুও তাদের হত্যা করো।” (আবু দাউদ)

স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ


আরও সংবাদ   বিষয়:   নবীজি   মক্কা বিজয়  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close