
বাউফলের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন এক সময়ের আওয়ামী লীগ নেতা এসএম ইউসুফ (৬৫)। চার দশকের বেশি সময় ধরে ছাত্রলীগ ও কৃষক লীগে রাজনীতি করা এই নেতা হঠাৎ করে ইসলামি আন্দোলনের মিছিলে নেতৃত্ব দিয়ে চমক সৃষ্টি করেন, আর তার পরদিনই ‘ডেভিলহ্যান্ড’ অভিযানে গ্রেপ্তার হন। ফলে তার রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতনের এক বছর’ উপলক্ষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাউফলে একটি বিজয় মিছিলের আয়োজন করে। সকাল সাড়ে ১১টায় বাউফল সরকারি কলেজ মাঠ থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এই মিছিল।
বিস্ময়ের ব্যাপার হলো—মিছিলের অগ্রভাগে ব্যানার হাতে নেতৃত্বে ছিলেন এসএম ইউসুফ, যিনি এখনো কাগজে-কলমে কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সদস্য এবং সাবেক জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি। দীর্ঘদিন বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এসএম ইউসুফের এমন অবস্থান বদল নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মুনতাসির তাসরিফ লামিম বলেন,
“এসএম ইউসুফ একজন ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর ছিলেন। তার ইসলামি আন্দোলনের মিছিলে অংশগ্রহণ রাজনৈতিক ভণ্ডামি এবং ষড়যন্ত্রেরই অংশ।”
ইসলামী আন্দোলনের স্থানীয় নেতারাও তার উপস্থিতি নিয়ে বিব্রত। বাউফল উপজেলা শাখার সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম সিকদার জানান, “তাকে কেউ আমন্ত্রণ জানায়নি। সে নিজে থেকেই মিছিলে যোগ দিয়েছে। আমরা খুবই বিপাকে পড়েছি।”
এসএম ইউসুফ নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, “আমি আওয়ামী লীগ করেছি, কিন্তু কারো ক্ষতি করিনি। এখন ইসলামি আন্দোলনের সঙ্গে কাজ করছি।”
পরদিন বুধবার (৬ আগস্ট) সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে বাউফল থানার পুলিশ তাকে নিজ বাসা, গোলাবাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। থানা সূত্রে জানা গেছে, এটি চলমান বিশেষ অভিযান ‘ডেভিলহ্যান্ড’-এর অংশ।
বাউফল থানার ওসি মো. আকতারুজ্জামান সরকার বলেন, “এসএম ইউসুফকে বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে আটক করা হয়েছে।”
তবে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশ করেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামি আন্দোলনের মিছিলে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডই গ্রেপ্তারের অন্যতম কারণ।
আশির দশকে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ইউসুফ পরবর্তীতে কৃষক লীগে যুক্ত হয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন। তৃণমূল আওয়ামী লীগেও তার প্রভাব ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি দলে গুরুত্ব হারান বলে অভিযোগ ঘনিষ্ঠ মহলের।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, “ইউসুফ অনেক আগেই তৃণমূল রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন। এখন তিনি সুবিধাবাদী রাজনীতির পথ বেছে নিয়েছেন।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ