
সংগৃহীত ছবি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের রোডম্যাপ, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস এবং পুরান ঢাকায় দুটি আবাসিক হল নির্মাণকাজের অগ্রগতি নিয়ে প্রশাসনের দায়িত্বহীন ও অস্পষ্ট বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
আজ বুধবার (৬ আগস্ট) উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে একটি চেয়ারে ‘প্রশাসন’ লিখে বসিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। চেয়ারের আশপাশে রাখা হয় নানা প্রশ্ন ও প্রশাসনের বহুল ব্যবহৃত উত্তরসংবলিত প্ল্যাকার্ড— ‘ছাত্র সংসদ কবে হবে?’, ‘দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ কবে শুরু হবে?’, ‘হল নির্মাণ কবে হবে?’, ‘বৃত্তি কবে আসবে?’—উত্তরে লেখা ছিল ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ‘চিঠি পাঠিয়েছি’, ‘হচ্ছে, চলছে, চলমান’, ‘বের হয়ে যাও’, ‘৮টা টু ৮টা’।
দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল হিসেবে স্বীকৃত দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও দুটি হল হাবিবুর রহমান ও বাণী ভবনের কাজ এখনো দৃশ্যমানভাবে শুরু না হওয়ায় এই প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে, জকসু নির্বাচন, সম্পূরক বৃত্তি ও শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে প্রশাসনের অবহেলার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
এ বিষয়ে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চলমান নীরবতা শিক্ষার্থীদের প্রতি চরম অবহেলার প্রতিফলন। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার, যেমন সম্পূরক বৃত্তি প্রদান ও জকসু নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশাসনের নির্লিপ্ত ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। আমরা, জবি শিক্ষার্থীরা, আজ প্রতীকী জবাবদিহিতা কর্মসূচির মাধ্যমে জানিয়ে দিচ্ছি, এই নীরবতা চলতে দেওয়া হবে না। প্রশাসন যদি দ্রুত সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো। বিশ্ববিদ্যালয় কারো দয়ায় নয় শিক্ষার্থীদের অধিকারে চলবে।”
অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ বলেন, “এই জবাবদিহিতা কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটা অথর্ব, মেরুদণ্ডহীন প্রশাসনের বিরুদ্ধে আমাদের এই প্রতিবাদ। গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা যাদের আশা করে ক্ষমতায় নিয়ে আসার জন্য গেট লক কর্মসূচি পালন করলাম, তারা আজ শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার নিয়ে উদাসীন। আবাসন, ভাতা, ছাত্র সংসদ, সবখানেই ব্যর্থতা! যমুনার সামনে রক্ত দিয়ে যাদের জাগাতে চেয়েছি, তারা এখন ইউজিসি থেকে আমাদের প্রাপ্য বৃত্তিও আনতে অক্ষম। আমাদের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ, দুটি হলের কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। আমাদের আজকের এই প্রতীকী জবাবদিহিতা তাদের ব্যর্থতা ও গাফিলতির নগ্ন মুখোশ খুলে দিতেই!”
এর আগে, জকসু নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিনকে প্রশ্ন করা হলে দুই সাংবাদিকের ওপর চড়াও হন তিনি। জকসু নিয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে আগ্রহী নন, বলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৫-এ ছাত্র সংসদ (জকসু) বিষয়ে কোনো বিধান না থাকায় বিগত ২০ বছরে তা গঠনের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। গত ২ জানুয়ারি ৯৯তম সিন্ডিকেট সভায় জকসু গঠনের গঠনতন্ত্র প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠিত হয়। পরে গত ৭ মে ১০০তম বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষার্থী ও সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে আরও একটি উচ্চতর কমিটি গঠন করা হয়। গত ১২ মে ও ১৫ মে যথাক্রমে শিক্ষার্থী ও সিন্ডিকেট সদস্যদের মতামত আহ্বান করা হয়। প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে উচ্চতর কমিটি এখন গঠনতন্ত্রকে আইন আকারে প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।