
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে সাবেক বক্সগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আলাউদ্দিনকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে ফেলে দেয়ার ঘটনায় মানববন্ধন করেছে নিহতের আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী।
আজ বুধবার (৬ আগস্ট) সকালে বক্সগঞ্জ বাজারের প্রধান সড়কে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে এলাকার হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করেন। নিহত আলাউদ্দিন বক্সগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম সুরুজ মিয়ার ছেলে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত আলাউদ্দিন মেম্বারের ছেলে জোবায়ের হোসেন রাজিম বাদী হয়ে সোমবার রাতে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ ২৫ জনকে আসামি করে নাঙ্গলকোট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহত আলাউদ্দিন মেম্বারের শিশু কন্যা তাবসসুম আক্তার অহি, ছেলে জোবায়ের হোসেন রাজিম, বক্সগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ ভূঁইয়া, সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রসূল, মানবাধিকার কর্মী ইলিয়াস পালোয়ান, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বক্সগঞ্জ ইউনিয়ন সাবেক সভাপতি নুরুন্নবী স্বপন, বক্সগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মাহবুবুল হক, হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহত আলাউদ্দিন মেম্বারের ভাগিনা তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, সৌদি আরব প্রবাসী নূর মোহাম্মদ, ইউনিয়ন ছাত্রদল সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ আজিজুর রহমান ভূঁইয়া, ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি জাকির হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া, মাস্টার জাফর আহম্মেদ, নাঙ্গলকোট উপজেলা যুবদল যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী ফয়সাল, জিয়া মঞ্চ নেতা ইয়াছিন সওদাগর, বক্সগঞ্জ ইউপি সদস্য আফজালুর রহমান ভূঁইয়া, জিয়া মঞ্চ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা সদস্য সচিব হুমায়ুন কবির।
মানববন্ধনে বক্তারা আলাউদ্দিন মেম্বার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচার শেষে ফাঁসির দাবি জানান। এছাড়া বক্তারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটনার দিন থেকে প্রশাসন দৃশ্যমান কোন ভূমিকা রাখেনি দাবি করে অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতার না করলে থানা ঘেরাও করার আল্টিমেটাম প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, উপজেলার দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামে চাচাতো ভাইয়ের জানাজা শেষে একই গ্রামের নিজ বাড়িতে ফেরার পথে গত ৩ আগস্ট রবিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে বক্সগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ সাবেক সদস্য আলাউদ্দিনকে (৫৫) সিএনজি অটোরিক্সায় করে তুলে নিয়ে চলন্ত গাড়িতে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
জানা যায়, আলিয়ারা গ্রামের আওয়ামী যুবলীগ নেতা শেখ ফরিদ এবং সালেহ আহাম্মদ মেম্বার ও নিহত আলাউদ্দিন মেম্বার গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ আদিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। গত ২৩ জুন নিহত আলাউদ্দিন মেম্বারের ভাই খায়ের আহম্মদ মেম্বারের গরু রশি ছিঁড়ে ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে নিহত আলাউদ্দিন মেম্বার গ্রুপের সাথে শেখ ফরিদ এবং সালেহ আহাম্মদ মেম্বার গ্রুপের দফায়-দফায় সংঘর্ষ, হামলা, ভাংচুর, লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে ৯টি মামলা হয়। সর্বশেষ গত রবিবার দুপুরে আলাউদ্দিন মেম্বারের চাচতো ভাই একই গ্রামের আবুল বাশারের জানাজা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বাড়ির সামনে থেকে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে ঢালুয়া-নাঙ্গলকোট সড়কের চাঁন্দাইশ গ্রামে কবরস্থানের পাশে সিএনজি আটোরিক্সা থেকে ফেলে দেয়।
নাঙ্গলকোট থানা অফিসার ইনচার্জ একে ফজলুল হক বলেন, ‘‘আলাউদ্দিন মেম্বার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামাসহ ২৫ জনকে আসামি করে নিহতের ছেলে মামলা দায়ের করেছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”