
সংগৃহীত ছবি
শয়তান, যার প্রকৃত নাম ইবলিস—সে জিন জাতির অন্তর্ভুক্ত। জিনদের মতো শয়তানের মধ্যেও নারী ও পুরুষ রয়েছে, এবং তাদের সন্তান-সন্ততিও হয়। কোরআনে উল্লেখ আছে:
আর যখন আমি ফেরেশতাদের বলেছিলাম, তোমরা আদমকে সিজদা কর। অতঃপর তারা সিজদা করল, ইবলিস ছাড়া। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার রবের নির্দেশ অমান্য করল। তোমরা কি তাকে ও তার বংশকে আমার পরিবর্তে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করবে, অথচ তারা তোমাদের শত্রু? জালিমদের জন্য কী মন্দ বিনিময়! (সুরা কাহাফ, আয়াত : ৫০)
মানুষের মতো জিনরাও স্বাধীন সত্তা। তাদেরও ভালো ও মন্দের পথ বেছে নেওয়ার সামর্থ্য দেওয়া হয়েছে। তারা যেমন ঈমান আনতে পারে, তেমনি কুফরেও লিপ্ত হতে পারে।
ইসলামি স্কলার কাতাদা (রহ.) বলেছেন, ইবলিসেরও মানুষের মতো সন্তান হয়। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, ইবলিস তার নিঃশ্বাস নিজ পশ্চাদ্দ্বারে প্রবেশ করিয়ে ডিম্ব সৃষ্টি করে, যেখান থেকে বিভিন্ন শ্রেণির শয়তান জন্ম নেয়।
মুজাহিদ (রহ.) বলেছেন, এই শয়তানগুলোর নাম হচ্ছে— জালিতুন, ওয়াসিন, লাকুস, আওয়ান, হাফফাপ, মুররাহ, মুসাব্বিত, দাসিম, ওয়ালহান।
এদের মধ্যে কে, কোন কাজে নিয়োজিত থাকে তার একটি বিবরণ তুলে ধরা হলো—
জালিতুন : বাজারগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে, আর নিজের পতাকা গেড়ে থাকে।
ওয়াসিন : মানুষদের আকস্মিক বিপদে ফেলার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকে।
লাকুস : অগ্নি পূজারিদের সঙ্গে থাকে।
আওয়ান : শাসকদের সঙ্গে থাকে।
হাফফাপ : মদ্যপায়ীদের সঙ্গে থাকে।
মুররাহ : গান-বাজনাকারীদের সঙ্গে থাকে।
মুসাব্বিত : বাজে কথাবার্তা সর্বত্র পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত থাকে।
দাসিম : ঘরের মানুষদের ভালো কাজ থেকে বিরত ও খারাপ কাজের আদেশ দেয়।
ওয়ালহান : অজু, নামাজ ও অন্য ইবাদতে কুমন্ত্রণা দেওয়ার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।