প্রকাশ: রবিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৩৪ পিএম

সংগৃহীত ছবি
কিয়ামতের দিন কাফেররা যখন জাহান্নামের ভয়াবহ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করবে, তখন তাদের সামনে স্পষ্ট হয়ে যাবে—তাদের জন্য আর কোনো মুক্তির সুযোগ নেই। তারা বুঝে যাবে, তাদের গন্তব্য শুধুই জাহান্নাম। আর এই চূড়ান্ত উপলব্ধির পর তারা আর্তনাদ করে আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার আবেদন করবে—তাদের দুনিয়ায় পাঠানো হোক, যাতে তারা সৎকাজ করতে পারে। কিন্তু তখন আর সেই আবেদন কোনো কাজে আসবে না। আল্লাহ তায়ালা তাদের ক্ষমা করবেন না।
এই অনুশোচনাপূর্ণ দৃশ্য সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে—
“হায়! আপনি যদি দেখতেন! যখন অপরাধীরা তাদের প্রতিপালকের সম্মুখে অধোবদন হয়ে বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা দেখেছি ও শুনেছি। এখন আপনি আমাদেরকে আবার (দুনিয়ায়) পাঠিয়ে দিন, আমরা সৎকাজ করব, আমরা তো দৃঢ় বিশ্বাসী।’” (সুরা আস-সাজদাহ, আয়াত ১২)
অন্য এক আয়াতে আল্লাহ বলেন—
“তুমি এ দিন সম্পর্কে উদাসীন ছিলে, এখন আমি তোমার সামনে থেকে পর্দা সরিয়ে দিয়েছি। আজ তোমার দৃষ্টি প্রখর।” (সুরা ক্বাফ, আয়াত ২২)
আরও বলা হয়েছে—
“তারা যেদিন আমার কাছে আসবে, সেদিন কত স্পষ্ট শুনবে ও দেখবে! কিন্তু জালিমরা আজ স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে।” (সুরা মারইয়াম, আয়াত ৩৮)
এছাড়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিসে বলেন—
“কিয়ামতের দিনে কাফেরের জন্য সময় নির্ধারণ করা হবে পঞ্চাশ হাজার বছর। আর কাফের চল্লিশ বছরের রাস্তা থেকে জাহান্নাম দেখে নিশ্চিত হয়ে যাবে যে সে তাতে পতিত হচ্ছে।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৭৫)
এই আয়াত ও হাদিসগুলো আমাদের সতর্ক করে দেয় যে, দুনিয়াই একমাত্র সুযোগ সৎকাজ ও তাওবার জন্য। মৃত্যুর পরে কিংবা কিয়ামতের দিনে কোনো অনুশোচনাই কাজে আসবে না। সুতরাং জীবিত অবস্থায়ই সঠিক পথে ফিরে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ।