প্রকাশ: রবিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৫, ৭:০৮ পিএম আপডেট: ০৩.০৮.২০২৫ ৭:১৫ PM

সাবেক ইউপি সদস্য
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার আলিয়ারা গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে সাবেক ইউপি সদস্যকে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
আজ রবিবার (০৩ আগস্ট) দুপুরে চাচাতো ভাইয়ের জানাজা শেষে বাড়ি ফেরার পথে সাবেক ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন অপহরণের শিকার হন এবং চলন্ত সিএনজি অটোরিকশায় কুপিয়ে ও মাথায় গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়।
নিহত আলাউদ্দিন বক্সগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জুন তার ভাই খায়ের আহমদের গরু অন্যের জমিতে ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় একাধিকবার সংঘর্ষ, হামলা, লুটপাট ও মামলার ঘটনা ঘটে। চলমান উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার দিন দুপুর ১টার দিকে আলাউদ্দিন মেম্বার জানাজা শেষে নিজ বাড়ি ফেরার সময় সন্ত্রাসীরা তাকে সিএনজিতে তুলে অপহরণ করে। খবর পেয়ে ভাগিনা আনোয়ার হোসেনসহ স্বজনরা মোটরসাইকেল নিয়ে ধাওয়া দিলে অপহরণকারীরা মৌকরা ইউনিয়নের চাঁন্দাইশ এলাকায় ঢালুয়া-নাঙ্গলকোট সড়কের পাশে তার হাত-পা বাঁধা ও গুলিবিদ্ধ দেহ ফেলে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, সালেহ আহমদ মেম্বার, শেখ ফরিদ, শহীদসহ মুখোশধারী কয়েকজন সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনীর টহল দল চাঁন্দাইশ মাদ্রাসার সামনে থেকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে একটি সিএনজি, দুটি মোটরসাইকেল এবং দুইজনকে আটক করে, তবে বাকি অপরাধীরা পালিয়ে যায়।
এ হত্যাকাণ্ডের খবরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আলিয়ারা গ্রামের কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, নিহত আলাউদ্দিন মেম্বার ও অভিযুক্তদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘাত চলছিল, যার জেরে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে, এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।