
৩৩ বছরের অভিনয়জীবনে অগণিত হিট ছবি, অগণিত ভক্ত, অসংখ্য সম্মান—তবু জাতীয় পুরস্কার এত দিন ছিল অধরা। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ২০২৩ সালের সেরা অভিনেতার সম্মান পেলেন বলিউড কিং শাহরুখ খান, অ্যাটলি পরিচালিত ‘জওয়ান’ ছবির জন্য।
পুরস্কারপ্রাপ্তির পর এক আবেগঘন ভিডিও বার্তায় শাহরুখ বলেন, “আমি কৃতজ্ঞ, গর্বিত এবং অভিভূত। জাতীয় পুরস্কার পাওয়া আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত। এই সম্মান আমি আজীবন লালন করব। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, জুরি বোর্ড, চেয়ারম্যান ও সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।”
ভিডিওতে অসুস্থ শরীরেও রসবোধ ধরে রেখে তিনি বলেন, “তোমাদের সঙ্গে হাত মেলাতে চাই, কিন্তু এখন একটু অসুস্থ। তবে চিন্তা কোরো না, শুধু পপকর্ন রেডি রাখো—আমি খুব শিগগিরই প্রেক্ষাগৃহে ফিরছি। ততদিন এক হাতেই উদ্যাপন হোক!”
এই পুরস্কার শাহরুখ উৎসর্গ করেছেন তাঁর কোটি ভক্তের প্রতি। “তোমাদের ভালোবাসা, উল্লাস, আনন্দাশ্রুই আমার অনুপ্রেরণা। এই পুরস্কার তোমাদের জন্য,” বলেন তিনি। সহকর্মী, পরিচালক, সহকারীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান শাহরুখ। অ্যাটলি, সাইদ ও প্রযোজক রাজু স্যারের নাম নিয়ে বলেন, “তোমাদের ধৈর্য আর ভালোবাসাই আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।”
ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আবেগপ্রবণ কথা বলেন তিনি। “আমার পরিবার—স্ত্রী ও সন্তানরা সবসময় চেয়েছে আমি যেন নিজের সেরা রূপে থাকতে পারি। সিনেমার জন্য আমার পাগলামো তারা মেনে নেয়, আমাকে যেমন আছি, তেমনভাবে গ্রহণ করে। তাদের এই ভালোবাসা আর সহ্যশক্তির জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ।”
তিনি আরও বলেন, “এই পুরস্কার শুধু প্রাপ্তি নয়, এটা দায়িত্বও। এটা আমাকে মনে করায়, আমার কাজটা গুরুত্বপূর্ণ—মানুষকে ছুঁয়ে যাওয়া, পর্দায় সত্যকে তুলে ধরা। আমি আরও শিখতে চাই, আরও ভালো কিছু করতে চাই। এটা আমার শেষ নয়, বরং নতুন শুরুর ঘোষণা।”
ভিডিওর শেষে ভক্তদের উদ্দেশে শাহরুখ বলেন, “তোমরা যেখানেই থাকো, যা করো, তার মধ্য থেকেও আমার সিনেমা দেখার ইচ্ছাটাই আমার শক্তি। আমি খুব শিগগিরই ফিরছি—ততক্ষণ, এক হাতেই বলছি… রেডি!”
বর্তমানে কাঁধের পুরোনো চোটের কারণে বিশ্রামে আছেন শাহরুখ। ‘কিং’ ছবির শুটিংয়ের সময় ফের চোট পেয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান তিনি। ভিডিওতে তাঁকে দেখা যায় ডান হাতে সাপোর্ট পরা অবস্থায়।
১৯৮৯ সালে ‘ফৌজি’ দিয়ে টিভিতে যাত্রা শুরু করা শাহরুখ ১৯৯২ সালে ‘দিওয়ানা’ দিয়ে বলিউডে পা রাখেন। ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’, ‘স্বদেশ’, ‘চাক দে! ইন্ডিয়া’, ‘মাই নেম ইজ খান’, ‘পাঠান’সহ বহু ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, তিনি শুধু তারকা নন—একজন পরিণত শিল্পী।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ