প্রকাশ: শুক্রবার, ১ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৩৩ পিএম

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত পাল্টা শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামানোকে রপ্তানি খাতের জন্য "সন্তোষজনক অবস্থা" হিসেবে দেখছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ শুক্রবার (১ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব বলেন তিনি।
তিনি বলেন, "এটা জয়-পরাজয়ের বিষয় নয়। নির্ধারিত শুল্ক হার প্রতিযোগিতার দিক থেকে আমাদের জন্য তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক। বর্তমানে আমাদের পণ্যে ২০%, পাকিস্তানে ১৯%, ভিয়েতনামে ২০% এবং ভারতে ২৫% শুল্ক আরোপিত হয়েছে। ফলে সার্বিক বিবেচনায় এটি একটি প্রতিযোগিতামূলক হার।"
তবে কেবল শুল্ক কমানোর দিকটি জানার পাশাপাশি এর পেছনের পূর্ণাঙ্গ আলোচনার বিষয়বস্তু জানাটাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
খসরু বলেন, "পুরো আলোচনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে এখনও আমাদের জানা নেই। আমরা জানি শুধু ট্যারিফ কত হলো। কিন্তু এর বিপরীতে বাংলাদেশকে কী দিতে হয়েছে—তা না জানা পর্যন্ত এ সিদ্ধান্তের আসল প্রভাব বোঝা সম্ভব নয়।"
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "এই সিদ্ধান্ত শুধু শুল্ক হ্রাস নিয়ে নয়, এটি একটি প্যাকেজ চুক্তির অংশ। এর পেছনে নানা আলাপ-আলোচনা হয়েছে, যেসব দাবিদাওয়া ছিল, সেগুলো জানলে আমরা আরও পরিষ্কারভাবে বলতে পারব।"
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫টি বোয়িং বিমান কেনার পরিকল্পনার সঙ্গে এ শুল্ক কমানোর কোনো যোগসূত্র আছে কি না—এমন প্রশ্নে আমীর খসরু বলেন, "না, কিছু তো করতেই হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের মূল উদ্দেশ্য তাদের পণ্য রপ্তানি বাড়ানো। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ এই চাপ কতটা সামলাতে পারবে—আমাদের অর্থনীতি, ব্যবসায়ী এবং বাজার কতটা সামর্থ্য রাখে তা ভেবে দেখা দরকার।"
তিনি আরও বলেন, "এই মুহূর্তে ২০ শতাংশ শুল্ক হার আমাদের রপ্তানি বাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। তবে এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য দিকগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেলে আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। আমি মনে করি, অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত এসব বিষয় জনসমক্ষে তুলে ধরা।"
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএএম