প্রকাশ: বুধবার, ৩০ জুলাই, ২০২৫, ১০:৪৭ AM

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বরাক নদীর ওপর নির্মিত সেতুর নিচে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ৭২ বছর বয়সী মো. আলাবর মিয়া ও তার পরিবার। কাঠ ও পলিথিন দিয়ে তৈরি ছোট্ট এক ঘরে তার স্ত্রী, সন্তান, পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিসহ মোট ১৫ জনের বাস।
সেতুটির ওপর দিয়ে প্রতিদিন ছুটে চলে শত শত ভারী যানবাহন, আর নিচে- জীবন সংগ্রামে ব্যস্ত এক অসহায় পরিবার।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ছয় ফুট উঁচু জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে জরাজীর্ণ একটি ঘর। বৃষ্টি হলে পানি ঢুকে পড়ে ঘরে। দিন-রাত যানবাহনের শব্দে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না কেউ। নেই বিদ্যুৎ, নেই চলাফেরার নিরাপত্তা।
আলাবর মিয়া বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে এখানে থাকছি। জমি নেই, ঘর নেই। শেষ বয়সেও মাথা গোঁজার ঠাঁই জোটেনি। ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করতে পারেনি। অসুস্থ হলেও ওষুধ কেনার টাকাও থাকে না।’
পরিবারের সদস্যরা জানান, সরকারি সহায়তা পেতে বহুবার ইউনিয়ন পরিষদে গেছেন, কিন্তু কোনো ঘর মেলেনি। কষ্টের মাঝেই কেটে যাচ্ছে প্রতিটি দিন।
স্থানীয় বাসিন্দা আল-মামুন বলেন, ‘এই পরিবারের কষ্ট দেখে চোখে পানি আসে। এখনই যদি কিছু না করা হয়, শিশুদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে।’
আরেক বাসিন্দা সবুজ উদ্দিন জানান, প্রতিদিনই খাবারের সংকটে পড়ে পরিবারটি। কখনও একবেলা খায়, কখনও না খেয়েই দিন কাটায়।
দেবপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. বশির আহমদ বলেন, ‘পরিবারটি সরকারি ঘরের জন্য আবেদন করেছে। বিষয়টি ইউপি ও প্রশাসনের নজরে আছে।’
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মো. ফরিদুর রহমান জানান, পরিবারটিকে বন্দোবস্তের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দ্রুতই সহায়তা দেওয়া হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম