প্রকাশ: বুধবার, ৩০ জুলাই, ২০২৫, ১২:২৯ AM

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর অ-পারমাণবিক বোমা ‘গাজাপ’ (Gazap) তৈরি করেছে তুরস্ক। সোমবার ইস্তাম্বুলে একটি আন্তর্জাতিক সমরাস্ত্র মেলায় প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা হয় এই ধ্বংসাত্মক বোমা। তুর্কি ভাষায় ‘গাজাপ’ শব্দের অর্থ ‘রাগ’ বা ‘ক্রোধ’।
প্রায় ৯৭০ কেজি (দুই হাজার পাউন্ড) ওজনের এই থার্মোবারিক বোমাটি ভয়াবহ তাপ ও চাপ তরঙ্গ তৈরি করতে পারে এবং বিস্ফোরণের সময় প্রায় ১০ হাজার ধাতব টুকরো ছড়িয়ে দেয়। শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটি, ভূগর্ভস্থ টানেল, বাঙ্কার ও শহরভিত্তিক যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে বোমাটি।
ইস্তাম্বুল ফেয়ার সেন্টারে অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে ‘গাজাপ’-এর পাশাপাশি আরও একটি নতুন বোমা ‘হায়ালেট’ (অর্থ: ভূত) উন্মোচন করা হয়। এই দুই অস্ত্রই তৈরি করেছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা ‘রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ (RDC)।
সংস্থাটির গবেষক দলের প্রধান নিলুফার কুজুলু জানান, গাজাপ বর্তমানে প্রচলিত মার্কিন ‘এমকে সিরিজ’ ঘরানার বোমার আদলে তৈরি, তবে এটির ধ্বংসক্ষমতা সেই সিরিজের যেকোনো বোমার তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।
গাজাপ একটি এরিয়াল বোমা, অর্থাৎ এটি বিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য। তবে সব যুদ্ধবিমান থেকে নয়—শুধু এফ-১৬ এবং এফ-৪ ফ্যান্টম এয়ারক্রাফট থেকে ছোড়া যাবে এই বোমা।
RDC-এর তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ এমকে সিরিজ বোমায় প্রতি মিটারে বিস্ফোরক উপাদান থাকে গড়ে ৩.২, আর গাজাপে এই অনুপাত ১০.১৩—যা একে আরও বেশি বিস্তৃত এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর সক্ষমতা দেয়।
গাজাপ বিস্ফোরিত হলে এর আশপাশের প্রায় ১৬০ মিটার ব্যাসার্ধে তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসে—যা ইস্পাত পর্যন্ত গলিয়ে ফেলতে সক্ষম।
গাজাপের কার্যক্ষমতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নিলুফার কুজুলু বলেন, “এটি পরমাণু অস্ত্র ব্যতীত পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী বোমাগুলোর একটি। এর শক্তি ও ধ্বংসক্ষমতা পারমাণবিক বোমার পরেই।”
এই ধরনের অ-পারমাণবিক বোমা আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে পারমাণবিক অস্ত্রের একটি ‘নৈতিক বিকল্প’ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তবে এর ব্যবহারে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর