বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু      পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান সম্ভব      যুবসমাজকে মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব: সাচিং প্রু      সনদের পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জন জরুরি: শ্রমমন্ত্রী      ৮ মাসে পেরিয়ে গেলেও ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়া জায় নেই      বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ       একাদশের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন      ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও ৮ জনের      শরণখোলায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ      রৌমারীতে উপজেলা কাব ক্যাম্পুরীর উদ্বোধন      কপোতাক্ষে মিলল ভ্যানচালক ইখলাসের মরদেহ      টাঙ্গাইল সেতুর প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ      
আবারও তিন মাসের বাণিজ্যে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা চীন–যুক্তরাষ্ট্রের
স্বদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০২৫, ৯:৪১ পিএম আপডেট: ২৯.০৭.২০২৫ ৯:৪৫ PM
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ অর্থনৈতিক কর্মকর্তারা সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৈঠক করেছেন। 

গতকাল সোমবার (২৯ জুলাই) সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় রোজেনবাদে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক বিরোধ মেটানো ও চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে এ আলোচনা হয়েছে। ফলাফল আবারও তিন মাস মেয়াদি যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এ আলোচনায় অংশ নেন।  বৈঠকে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেং উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যমান বন্দোবস্ত অনুযায়ী, চীনকে আগামী ১২ আগস্টের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে স্থায়ী শুল্ক চুক্তি করতে হবে। এর আগে মে ও জুন মাসে তাদের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছিল। সে সমঝোতার কল্যাণে পাল্টা শুল্ক আরোপ ও দুর্লভ খনিজ রপ্তানি বন্ধের মতো উত্তেজনাপূর্ণ পদক্ষেপ স্থগিত করা সম্ভব হয়।

দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা সন্ধ্যা আটটার দিকে ‘রোজেনবাদ’ কার্যালয় ত্যাগ করেন, যদিও তাঁরা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। মঙ্গলবার আবার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা।

স্কটল্যান্ডে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এ আলোচনার বিষয়ে বলেন, “আমি চাই, চীন নিজেদের বাজার খুলে দিক।”

তবে বাস্তবতা হলো চীন–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার আবারও তিন অঙ্কের ঘরে ফিরে আসতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানান, আজ মঙ্গলবার স্টকহোমের আলোচনায় বড় অগ্রগতি আশা করছেন না তিনি। 

তিনি বলেন, “আমার প্রত্যাশা হলো এ পর্যন্ত যে চুক্তিগুলো হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের প্রবাহ ঠিক রাখা। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যের ভিত্তি স্থাপন।”

এর আগে গত রোববার ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেন। এখন পর্যন্ত তিনি যত চুক্তি করেছেন, তার মধ্যে এ চুক্তি অন্যতম বৃহৎ। এ চুক্তির অধীন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা বেশির ভাগ ইউরোপীয় পণ্যে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, বেইজিংয়ের সঙ্গে চলমান আলোচনা ব্যাহত না করতে এবং সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পথ মসৃণ করতে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত চীনে প্রযুক্তি রপ্তানিতে কড়াকড়ি শিথিল করেছে।

অন্যদিকে ওয়াশিংটনে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের সিনেটররা চলতি সপ্তাহে চীনের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, ভিন্নমতাবলম্বী ও তাইওয়ান নিয়ে নতুন বিল উত্থাপন করতে যাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে উভয় দেশের আলোচনা জটিল হয়ে যেতে পারে।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং তে আগস্ট মাসে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফর স্থগিত করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সূত্র রয়টার্সকে জানায়।

এর আগে মে ও জুন মাসে জেনেভা ও লন্ডনে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য আলোচনায় মূলত পাল্টাপাল্টি শুল্ক হ্রাস এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া খনিজ ও প্রযুক্তিপণ্যের রপ্তানি আবার চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়।

আলোচনা এখন পর্যন্ত এসব বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে। আরও গভীর অর্থনৈতিক বিষয়, যেমন চীনের রপ্তানিনির্ভর রাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক মডেল কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের জাতীয় নিরাপত্তাভিত্তিক যুক্তি এসব নিয়ে গভীর আলোচনা হয়নি।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের চীনবিষয়ক অর্থনৈতিক বিশ্লেষক স্কট কেনেডি বলেন, “জেনেভা ও লন্ডনের আলোচনা ছিল মূলত সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রাথমিক পদক্ষেপ, যেন পরে প্রকৃত সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলা যায়।”

বেসেন্ট ইতিমধ্যে সময়সীমা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি চান, চীন রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধির মডেল থেকে অভ্যন্তরীণ চাহিদাভিত্তিক মডেল গ্রহণ করুক, এটি যুক্তরাষ্ট্রের বহুদিনের নীতিগত লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, গত ১২ মে দুই দেশ বাণিজ্যযুদ্ধ বিরতিতে সম্মত হয়। এর আগে, তারা কেবল একে অপরের পণ্যে শুল্ক বাড়িয়েই গেছে। 

সেদিনের যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, ১৪ মে থেকে যুক্তরাষ্ট্র চীনের পণ্যে আরোপিত ১৪৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ৩০ শতাংশে নিয়ে আসে এবং চীনও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক ১২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনে।


স্বদেশ প্রতিদিন/এমএএম



আরও সংবাদ   বিষয়:  বাণিজ্য   চীন–যুক্তরাষ্ট্রে  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close