প্রকাশ: সোমবার, ২৮ জুলাই, ২০২৫, ৯:০৮ পিএম

পাবলিক টয়লেট ভেঙে নকলনবিশ কার্যালয়
কুমিল্লার তিতাস উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য নির্মিত পাবলিক টয়লেট ভেঙে সেখানে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের আওতাধীন নকলনবিশদের বসার স্থান বানানো হয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে।
এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ও দলিল-লেখকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাবলিক টয়লেট ভেঙে একটি ছোট কক্ষে গাদাগাদি করে ১৫ জন নকলনবিশকে বসানো হয়েছে, যেখানে স্বাভাবিকভাবে ৫-৬ জনের বসার জায়গা হওয়ার কথা। একজন উঠলে তবেই অন্যজন নিজের টেবিলে যেতে পারেন। উপরতলা থেকে নেমে আসা স্যানিটারি পাইপের গন্ধে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এমন অবস্থায় গত দুই সপ্তাহ ধরে নকল লেখা বন্ধ রেখেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফলে দলিল লিখন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জমির খারিজসহ নানা সরকারি সেবা ব্যাহত হচ্ছে। অপরদিকে, পাবলিক টয়লেট না থাকায় উপজেলা পরিষদে আসা শত শত মানুষ মলমূত্র ত্যাগের জন্য বিপাকে পড়ছেন।
চায়ের দোকানদার আনিছুর রহমান ও সেবা নিতে আসা লাক মিয়া বলেন, “উপজেলা কমপ্লেক্সে প্রতিদিন শত শত মানুষ আসে। অথচ টয়লেট নেই। এটা খুবই লজ্জাজনক।”
নকলনবিশ মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বপন বলেন, “আগের কক্ষে সাব-রেজিস্ট্রার স্যারের খাস কামরা নির্মাণ কাজ চলায় আমাদের পাবলিক টয়লেট ভেঙে বসতে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুর্গন্ধ ও জায়গা সংকটে কাজ করা যাচ্ছে না। তাই আমরা কাজ বন্ধ রেখেছি।”
দলিল লিখক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জাকির হোসেন বলেন, “নকল না থাকায় জমি খারিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ আটকে গেছে। দ্রুত এর সমাধান দরকার।”
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, “পুরাতন কক্ষে সংস্কার কাজ চলছে। এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। পাবলিক টয়লেট ভাঙা নিয়ে জনগণের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই।”
তবে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া মমিন বলেন, “রেজুলেশন করে দুইটি কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। একটি সাব-রেজিস্টার অফিসকে ও অন্যটি প্রাণিসম্পদ অফিসকে। বরাদ্দপ্রাপ্ত কক্ষে না গিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার অফিস কী কারণে টয়লেট ভেঙে নকলনবিশদের বসিয়েছে, তা জানতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।”