
ঝালকাঠিতে হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার পর ফেরার পথে আদালতের প্রধান ফটকের সামনে সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মন্নান মৃধাকে হাতুড়ি দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
রোববার (২৭ জুলাই) দুপুরে ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ব্যক্তি হলেন:- নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মন্নান মৃধা ওরফে চুন্নু (৫২)। তিনি উপজেলার কয়া গ্রামের মৃত হাতেম মৃধার ছেলে।
এ ঘটনায় ঝালকাঠি সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রহিবুল ইসলাম ভুক্তভোগী আবদুল মন্নান মৃধার আহত অবস্থায় জবানবন্দী গ্রহণ করে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামানকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঝালকাঠি জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহেব হোসেন।
২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রুবেল গাজী নামে এক যুবককে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার আজ ছিল সাক্ষ্যগ্রহণের দিন। মন্নান মৃধা আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বের হলে অভিযুক্ত আসামিরা প্রধান ফটকের কাছে তাকে ঘিরে ধরে। এরপর হাতুড়ি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে রক্তাক্ত করে তোলে। এসময় তার মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করে তারা। এতে মন্নান মৃধা গুরুতর আহত হন।
পরে আদালত পাড়ার বিচার প্রার্থীরা এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় মন্নান মৃধাকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এজলাসে নিয়ে যান। ঘটনার পর অভিযুক্ত আসামিরা পালিয়ে যান। পরে জেলা ও দায়রা জজ মো. রহিবুল ইসলাম ভুক্তভোগী মন্নান মৃধার কাছ থেকে এ ঘটনার বিস্তারিত জবানবন্দী গ্রহণ করেন।
নলছিটি থানা পুলিশ রুবেল হত্যা মামালাটি তদন্ত করে চলতি বছরের ৩ মে ১২ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ পত্র দায়ের করেন। আসামিরা হলো, অহিদুল ইসলাম মৃধা (২৭), মো. রফিক মৃধা (৩২), সোহেল মাঝি (৩৬), সাইদুল ফকির (২৩), মো. সালাম ফকির (২৩), এনায়েতুর রহমান (৪৬), কালাম খান (৩২), নাসির খান (৪৮), মো. এরশাদ হাওলাদার (৩০) মো, রবিউল হাওলাদার (২০), মো. বাবুল মৃধা (৪৭) ও মো. সোহরাব মৃধা (৪৫)। মামলাটি চুড়ান্ত সাক্ষীর জন্য চলমান আছে।
আহত আবদুল মন্নান মৃধা বলেন, ‘আদালত পাড়ায় সাক্ষী দিতে এসেও মানুষের নিরাপত্তা নেই। রুবেল গাজী হত্যা মামলায় আসামিদের চিহ্নিত করে আজ আমি আদালতে সাক্ষী দিয়েছি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা হত্যার উদ্দেশ্যে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে আমাকে রক্তাক্ত জখম করে। এমন কি আসামিরা আমার মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় আমি বিচার চাই।
মামলার বাদী জসিম গাজী বলেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যা করেও তারা ক্ষান্ত হয়নি। এখন মামলার সাক্ষীকেও হত্যা করে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে হত্যা মামলা থেকে রেহাই পেতে চায়।’
ঝালকাঠি জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহেব হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। মন্নান মৃধা আদালতে সাক্ষী দিয়ে আসামিদের চিহ্নিত করেছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। জেলা ও দায়রা জজ মো. রহিবুল ইসলাম এ ঘটনায় ঝালকাঠি সদর থানার ওসিকে দ্রুত মামলা নেওয়া নির্দেশ দিয়েছেন।’
ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান, আদালতের নির্দেশনা হাতে পেয়েছি। এ ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম