প্রকাশ: শনিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৫, ২:০৫ পিএম

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ পৌরসভার রণতিথা এলাকায় চলাচলের জন্য কোনো রাস্তা না থাকায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন প্রায় ৩০টি পরিবার। বাইসাইকেল তো দূরের কথা, হাঁটাচলার মতোও কোনো উপযুক্ত রাস্তা নেই। এ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস বা জরুরি সেবা গ্রহণের সুযোগও নেই, ফলে প্রতিনিয়ত চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটছে না এসব পরিবারের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলাকার লোকজন অন্যের জমির আইল দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করছেন। বর্ষাকালে এই দুর্ভোগ আরও চরমে পৌঁছে।
ভুক্তভোগী ওবাইদুল ইসলাম বলেন, ‘বাড়িতে কেউ অসুস্থ হলে কোন এ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা ভ্যান, সাইকেল নিয়ে আসার একটা পথ নেই। অন্যের জমির আইল দিয়ে খুব কষ্ট করে আমাদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। আমরা যে কী মানবেতর জীবনযাপন করছি, তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।’
আলামিন শেখ, শাহজাহান নামে অপর ভুক্তভোগীরা বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, আমাদের কথা বলার জায়গা নেই। দিনমজুরের কাজ করে খাই। মানুষ মরলে লাশ নিয়ে যাওয়ার মতো জায়গা নেই। প্রতিবেশীরা যদি মাত্র ৩-৪ হাত জায়গা দেয় তাহলে আমরা খুব ভাল ভাবে যাতায়াত করতে পারবো।’
এসব পরিবারের সদস্যরা বলেন, ‘এখানের প্রায় সবাই খেটে খাওয়া দিনমজুর। সবাই গরিব মানুষ। প্রতিবেশীরা যদি যাতায়াতের জন্য একটু জায়গা আমাদের দেয় তাহলে আমরা ভাল ভাবে রাস্তা তৈরি করে চলাচল করতে পারব।’
বাংলাদেশ মানবাধিকার কল্যাণ ট্রাষ্টের সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মো. তমাল সরকার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছে ৩০টি পরিবার। এমন সংবাদ জানতে পেরে আমি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। সেই সাথে যাতায়াতের জন্য মাত্র ৪ হাত জায়গার জন্য পাশের দুই প্রতিবেশির সঙ্গে কথা বলি। একজন রাস্তার জন্য জায়গা দিতে রাজি হলেও অপর আরেকজন রাজি হননি। আমি স্থানীয় প্রশাসনের নিকট হস্তক্ষেপ কামনা করছি। জেনো ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে একজন মানুষের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হয়।’
এবিষয়ে রায়গঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছা. খাদিজা খাতুন-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম