শুক্রবার ● ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       ● নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       ● আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      ● সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      ● সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       ● আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      ● লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      ● কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      ● প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ● ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      ● অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ● ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
কাবিখা-কাবিটা ও টিআর প্রকল্পে কয়েক কোটি টাকা লুটপাট
বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ জুলাই, ২০২৫, ৯:২৪ পিএম আপডেট: ২৫.০৭.২০২৫ ৯:২৬ PM
কাবিখা-কাবিটা ও টিআর প্রকল্পে কয়েক কোটি টাকা লুটপাট

কাবিখা-কাবিটা ও টিআর প্রকল্পে কয়েক কোটি টাকা লুটপাট

বরগুনার পাথরঘাটায় কাবিখা, কাবিটা (খাদ্যশস্য ও নগদ অর্থ) ও টিআর প্রকল্পের ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্প কাগজে-কলমে কাজ দেখালেও বাস্তবে তার কোনো চিহ্ন নেই। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পাথরঘাটা উপজেলায় এসব প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ছিল ৪ কোটি ২১ লাখ ৭৯ হাজার ৩১৫ টাকা। তবে ২১ লাখ টাকার কাজও হয়নি। 

প্রকল্পের পরিপত্র অনুযায়ী, কাজ শুরুর আগে বাধ্যতামূলক সংশ্লিষ্ট প্রকল্প, কমিটির নাম ও বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখ করে সাইনবোর্ড স্থাপন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। 

সেই অফিসের কর্মকর্তা জানান, এ অনিয়মের সাথে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রুনু বেগম ও সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের কার্যসহকারী মো. স্বপন জড়িত। কথিত উন্নয়নের নামে পাথরঘাটায় কাগজে-কলমে কোটি টাকার বাণিজ্য চলছে। তবে, বাস্তবে কাজ হচ্ছে না।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে পাথরঘাটা উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কার্যালয় থেকে ৪ কোটি ২১ লাখ ৭৯ হাজার ৩১৫ টাকা বরাদ্ধ হয়। এর মধ্যে ৭ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ১৫০ টি প্রকল্পের কাজ করার কথা। কাগজ কলমে এসব প্রকল্পের নাম থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে এই কাজের কোন অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যায়নি। এ প্রকল্পগুলোর কাজে সরেজমিনে অনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার কাজ হয়েছে।

সরেজমিনে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বরইতলা গ্রামের খাইরুলের বাড়ি থেকে ছগির মিনার বাড়ি পর্যন্ত মাটি ভরাটের জন্য ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা, আশরাফ আলীর বাড়ি থেকে কবির দফাদার বাড়ি পর্যন্ত আরও একটি প্রকল্পে ২ লাখ ১৫ হাজার ৬০০ টাকা এবং একই রাস্তায় আরও দুটি প্রকল্পের আওতায় ২০ টন গম (সরকারি মূল্য প্রায় ৯ লাখ ২০ হাজার টাকা) ও নগদ ২ লাখ ১০ হাজার টাকা, উত্তর হাতিমপুর এলাকার মালেক মাস্টারের বাড়ি থেকে আলমের ঘের পর্যন্ত মাটির রাস্তা সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা, ১০৩ নং মাছরখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টাকা, নিজলাঠিমারা এসকান্দারের বাড়ি থেকে কিল্লাগামী মাটির রাস্তা নির্মাণের জন্য ১২ টন চাল, যার সরকারি মূল্য ৬ লাখ ৮৩ হাজার ৮৬৮ টাকা। একই এলাকার একটি পার্শ্ব রাস্তায় আরও ২ লাখ ৯৮ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। 

এ সকল রাস্তায় বরাদ্ধ হলেও সেটি অধিকাংশ রাস্তার কাজ না করেই টাকা উত্তোলন করা হয়ে গেছে। 

এদিকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পে একজন ব্যক্তি একাধিক প্রকল্পের সভাপতি হতে পারেন না। তবে, পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সগীর আলম একাই ৯টি প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে রয়েছেন এবং এসকল প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করেছেন। 

স্থানীয়রা বলেন, “গত দুই বছরে এই রাস্তাগুলোতে কোন কাজ করতে দেখা যায়নি। ভেবেছিলাম ৫ আগস্টের পরে চোরগুলো সব পালিয়ে গেছে। এখন দেখছি চোরের চেয়ে আরো বড় চোর ধরেছে আমাদের। প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অধিকাংশই কাগজে সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে।” 

মাছেরখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিখা রানী অধিকারী বলেন, “বিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালীন সময় এক জাহাজ বালু ফেলেছেন তা আমরা জানিনা। এই এক জাহাজ বালুর দাম ১৫ হাজার টাকা কিন্তু আমার বিদ্যালয় বাজেট হয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টাকা।” 

প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কার্যসহকারী স্বপন জানান, অফিসের সকল কাজ করেছেন পিআইও। তিনি দেখেই বিল পাস করেছেন। এর দায়ভার সব তার। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।

সাবেক ইউপি সদস্য শাহিন মোল্লা বলেন, “ইউএনও বরাবর অভিযোগ করলেও তিনি পিআইওকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে সব বিল পরিশোধ করেছেন। ৪ কোটি ২১ লাখ ৭৯ হাজার ৩১৫ টাকার প্রকল্পের বিপরীতে ১০ লাখ টাকার কাজও দেখানো সম্ভব না। এমন লুটপাট আমার জীবনে দেখিনি।”

এ বিষয়ে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সগীর আলম বলেন, “তাদের বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সকল প্রকল্পের কাজ ঠিক মতো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।”

একাধিক প্রকল্পে এক ব্যাক্তির নাম থাকতে পারে না সেখানে আপনার নাম কিভাবে থাকে?

এই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, উন্নয়নের স্বার্থে অনেকগুলো প্রকল্পে তার নাম দেয়া হয়েছে। 

প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করে বলেন, “যারা এসব বলছে তারা মিথ্যা বলছে।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রুনু বেগমের কাছে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করতে বলেন। এ বিষয়ে কোন কথা বলবেন না বলে অফিস থেকে বের হয়ে যান তিনি।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “যে প্রকল্পের কাজ হয়নি, সেই প্রকল্প সম্পর্কে নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব। কাজ না হলে প্রকল্পের টাকা ফেরতের বিধান আছে, তা আমরা আইনগতভাবে অনুসরণ করব।”

পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী মো. ফারুক বলেন, “পাথরঘাটার মত এমন অনিয়ম কোথাও হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। কাজগুলো ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। পিআইও অফিস কোনো সঠিক তদারকি করেনি। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানাই।”


স্বদেশ প্রতিদিন/এমএএম



আরও সংবাদ   বিষয়:  কাবিখা-কাবিটা   টিআর প্রকল্প   






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close