
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার অভ্যন্তরীণ ৫২৬ কিলোমিটার বেহাল সড়ক জনজীবনে চরম দুর্ভোগ ডেকে এনেছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে তাদের অধীন মোট সড়কের পরিমাণ প্রায় ২৩ হাজার ৯৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে চলাচলের অযোগ্য অবস্থায় রয়েছে প্রায় ৫২৬ কিলোমিটার সড়ক, যা বর্ষাকালে যোগাযোগ ব্যবস্থা একপ্রকার অচল করে দিতে পারে বলে শঙ্কা স্থানীয়দের।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের মধ্যে রয়েছে— (দাসপাড়া ইউনিয়নের ছোট চৌমুহনী-নওমালা ব্রিজ সড়ক) ,(লেঙরা মুন্সির পুল থেকে কাদের সর্দার বাড়ি), (সাবেক চেয়ারম্যান নুরু মিয়ার বাড়ি থেকে রশিদের বাড়ি), (কাঠের পুল থেকে হুজুরের বাড়ি), (বড় চৌমুহনী থেকে ইলিশার খাল)
(বাংলাবাজার থেকে হাজীর হাট), (কালাইয়া ইউনিয়নের শিমুলবাগ থেকে কলেজ সড়ক), (কনকদিয়া-বীরপাশা, কালিশুরী-ধুলিয়া, কালিশুরী-কেশবপুর), (বগা-সাবপুরা, হোগলা-কলতা), (কাছিপাড়া-মান্দারবন, কারখানা-লঞ্চঘাট-পাড়ের বাজার-দরিয়াবাদ)।
এছাড়াও চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ৮ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ছাড়া বাকি সব রাস্তাই কাঁচা ফলে বর্ষার মৌসুমে উতরে উঠে এই জনপদের বিরামহীন দুর্ভোগ। এসব সড়কে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হাঁটাও কঠিন হয়ে পড়ে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও কৃষকরাও পড়ছেন চরম দুর্ভোগে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাস্তার কোথাও কোথাও পাথর ও খোয়া উঠে বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। কিছু কিছু স্থানে সড়ক পানিতে তলিয়ে থাকায় যানবাহন চলছে ঝুঁকি নিয়ে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জানান, এই বেহাল সড়ক তাদের শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জীবনযাত্রাকে চরমভাবে ব্যাহত করছে।
গাড়িচালক হাসান স্বদেশ প্রতিদিন কে বলেন, রাস্তায় চলতে গিয়ে গাড়ি নষ্ট হচ্ছে। দিন দিন আয় কমে যাচ্ছে। যাত্রীও কমে গেছে অনেক।
বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাস্তার দুরবস্থার কারণে নিয়মিত ক্লাসে যাওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদা-মাটি ও গর্তে হাঁটাচলাই দুরূহ হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে কথা হলে এলজিইডি বাউফল উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলী শ্যামল কুমার গাইন বলেন, বেহাল সড়কগুলোর তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্র সংস্কার কাজ শুরু হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ