
কুড়িগ্রাম রৌমারীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার রৌমারী সদর ইউনিয়নের ভুন্দুর চর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশ, স্থানীয় ও নিহত পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রৌমারী সদর ইউনিয়নের ভুন্দুর চর গ্রামের গোলাম শহীদ এর ছেলে শাহজামাল ও তার চাচা গোলাম রব্বানীর মধ্যে দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত ৩ একর জায়গা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষে কয়েক দফা মারামারি এবং আদালত ও থানায় উভয় পক্ষের একাধীক মামলা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে বিরোধপূর্ণ জমিতে শাহজামালের ছেলে কাচা ও আরিফ হাল চাষাবাদ করছিলেন। এ সময় গোলাম রব্বানীর পক্ষের আপেল, নুর মোহাম্মদ, আব্দুল মজিদসহ ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল দেশিয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের চাষাবাদে বাধা দেন। উভয় পক্ষ বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে গোলাম শহীদ এর ছেলে শাহজামালের পক্ষের ফুলবাবু, বুলু মিয়া ও নুরুল আমিন নামের চাচাসহ ৩ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং আরও একজন আহত অবস্থায় তার নিজ বাড়িতে মারা যান। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আপেল, নুর মোহাম্মদ, আব্দুল মজিদ, আরিফ, মজনু, আনোয়ার, ফজলুল করিম, ফজলে রহিম, রব্বানী, আব্দুল রহিমসহ অনন্ত ১৫ জন আহত হন।
পরে আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আপেল ও নুর মোহাম্মদকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফজলুর রহমান শুভ তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
খবর পেয়ে ইউএনও, পুলিশ সার্কেল, রৌমারী থানার ওসিসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে আহতদের অব্স্থা পর্যবেক্ষণ করেন।
রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে’র আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নবীউল ইসলাম জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার আগেই আহত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ লুৎফর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় নিয়মিত হত্যা মামলা হয়েছে। ১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বাকি আসামিদের আটকের চেষ্টা চলমান রয়েছে। নিহত ৩ জনের লাশ ময়না তদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম