
সাবেক যুবনেতা মামুন হাসান বলেছেন, “আমরা বিশ্বাস করি, তারেক রহমানের নেতৃত্বেই দেশের জনগণ গণতন্ত্রের জন্য ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।”
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক যুবনেতা মামুন হাসান বলেছেন, “তারেক রহমানকে নিয়ে কোনো ধরনের কটূক্তি বরদাস্ত করা হবে না।”
আজ শনিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে মিরপুরে জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদ মো. আকরাম খাঁন রাব্বিসহ সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতায় দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “খবরদার শহীদ জিয়ার আদর্শ নিয়ে কোনো কথা বলা যাবে না। তার সন্তানকে নিয়ে
কোনো কথা বলা যাবে না। যে সন্তানের জন্য গত ১৬ বছর এই নেতারা জীবন বিসর্জন
দিয়ে, রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে, হাঁটু পানিতে বাস করে এই দলকে তারেক রহমানের
নির্দেশে টিকিয়ে রেখেছেন, সেই দলের নেতাকে নিয়ে আপনি কটূক্তি করবেন! তা হতে
পারে না।”
জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসান বলেন, “আমাদের প্রিয় নেতা হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে ১/১১ এর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে দেশে নেই। দেশের মানুষকে মুক্তি দেয়ার জন্য, দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য, দেশের মানুষের সেবা করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে।”
মামুন হাসান বলেন, “৫ আগস্টে যে বিজয় এসেছে সেটা কিন্তু সংগ্রামের প্রথম ধাপ। দ্বিতীয় ধাপ ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া। তবে তা এখনো হয়নি। আর তৃতীয় ধাপ ছিল জনগণের নির্বাচিত দলের একটি সরকার গঠিত হওয়া। তাহলেই আমাদের সেই বিজয় পূর্ণতা পাবে। ২৪’র আন্দোলনকে আজ আমরা স্মরণ করি, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। ৫ আগস্ট, যেদিন স্বৈরাচার পালিয়ে গেল, সেদিনের বিজয়কে আটকে রাখলে হবে না। একে সুসংহত করে দেশের প্রতিটা মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতে হবে।”
তিনি আরো বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তি ও অপপ্রচার একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। বিএনপি এসব ষড়যন্ত্রে জড়াতে চায় না, প্রতিউত্তরও দিতে চায় না। আমরা বিশ্বাস করি, তারেক রহমানের নেতৃত্বেই দেশের জনগণ গণতন্ত্রের জন্য ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।”
এছাড়াও তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের এই স্মরণময় সময় আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জনগণই সর্বোচ্চ শক্তি। সেই শক্তিকে সম্মান জানিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে।”
শহীদদের উদ্দেশ্যে সাবেক ছাত্রনেতা মামুন হাসান বলেন, “জুলাই আগস্টের ছাত্রজনতার আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধ্রুবতারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার ডাকে শহীদ মো. আকরাম খাঁন রাব্বিসহ অসংখ্য ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে এসেছে। বুলেট বুকে নিয়ে দেশকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছে। তাই আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটে জয়লাভ করে বিএনপি সরকার গঠন করলে, রাব্বিসহ সকল শহীদদের মূল্যায়ন করা হবে।”
ঢাকা ১৫ আসনের মাটি ও মানুষের নেতা মামুন হাসান বলেন, ‘এই এলাকায় আমি ভাড়া করা লোক নই। আমি এই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা। আমি এই এলাকার ভোটার। নির্বাচনের সময় এলে অনেকেই এই এলাকায় আসতে চায়। শুধু নির্বাচন ঘিরে এলাকার মানুষের কাছে ছুটে যায়। ওইসকল ভাড়াটে প্রতিনিধির কর্মকাণ্ড দেখে এলাকার মানুষজন হাস্যরস করে।”
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমি এই এলাকার মানুষদের সুখে দুঃখে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। বিএনপির রাজনীতি করি ছাত্রজীবন থেকে। দলের জন্য সবসময় কাজ করছি, আগামীদিনেও দলের যেকোনো সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েই কাজ করবো। নমিনেশন জন্য দলের কাছে আবেদন করবো। দল মনোনয়ন দিলেও আপনাদের জন্য কাজ করবো, না দিলেও আপনাদের জন্য কাজ করবো। কারণ, আমি তো বসন্তের কোকিল না। আমি এ এলাকারই নাগরিক। আপনাদেরই সন্তান, আপনাদেরই ভাই।”
এ সময় তিনি জুলাই আন্দোলনে শহীদ মো. আকরাম খান রাব্বি ও মরহুমা মেহেরুন্নেসা তানহার কবর জিয়ারত করেন এবং শহীদ আকরাম খান সড়ক উদ্বোধন করেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস/ওফ