
সংগৃহীত ছবি
ইলিশ বাঙালির আবেগ ও ঐতিহ্যের নাম। উৎসব-অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে পারিবারিক আয়োজনে ইলিশ যেন এক আবশ্যিক অনুষঙ্গ। ইলিশ যেমন খেতে সুস্বাদু, তেমনি এতে রয়েছে অসাধারণ পুষ্টিগুণ, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
ইলিশে পুষ্টিগুণ
প্রতি ১০০ গ্রাম ইলিশে প্রায় ১৬৫ ক্যালরি, ২০-২৪ গ্রাম প্রোটিন এবং ৯-১০ গ্রাম ফ্যাট থাকে। এতে আরও রয়েছে ৩-৪ গ্রাম খাদ্য আঁশ, ৭৬ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন এ, ১৪ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন সি, ৩৭০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১৫ মিলিগ্রাম আয়রন এবং ৪৫ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম। এ ছাড়া ম্যাঙ্গানিজ, কপার ও জিংকের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। মাছের বয়স ও ওজনভেদে এই মান কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।
ইলিশের স্বাদ ও সুগন্ধের রহস্য
ইলিশের অনন্য স্বাদ ও সুগন্ধের প্রধান কারণ হলো এতে থাকা উচ্চমাত্রার পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড (PUFA)। এতে রয়েছে স্টিয়ারিক, অলিক, লিনোলিক, লিনোলেনিক, অ্যারাকিডোনিক, ইকোসাপেন্টানোয়িক ও ডেকাহেক্সানোয়িক অ্যাসিডের মতো উপকারী চর্বি। এছাড়াও গ্লুটামিক অ্যাসিড, অ্যালানিন এবং অ্যাসপার্টিক অ্যাসিডের মতো অ্যামিনো অ্যাসিড ইলিশের স্বাদ বাড়িয়ে তোলে।
ইলিশের উপকারিতা
ইলিশে রয়েছে ফার্স্টক্লাস প্রোটিন, যা শরীর গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সব এসেনশিয়াল অ্যামিনো অ্যাসিড সরবরাহ করে। এল-আরজিনিন শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে এবং এল-লাইসিন পরিপাকতন্ত্রের উন্নতিতে সাহায্য করে। এতে থাকা কোলাজেন ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সহায়ক।
এছাড়া ইলিশে থাকা ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড শিশুদের মস্তিষ্ক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ওমেগা-৩ হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমায়, ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা হ্রাস করে এবং রক্তনালিতে ব্লক সৃষ্টি প্রতিরোধ করে। ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি রক্ষায়, আর ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস দাঁত ও হাড় গঠনে ভূমিকা রাখে। আয়রন রক্তস্বল্পতা রোধে এবং ভিটামিন সি আয়রনের শোষণ বাড়াতে সহায়তা করে।
ইলিশের পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ন রাখার উপায়
ইলিশ বেশি ভেজে রান্না করলে এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই হালকা ভাজা অথবা না ভেজেই রান্না করা উত্তম। দীর্ঘ সময় ধরে রান্না করলেও ভিটামিন সি ও পটাশিয়ামের মতো পুষ্টি উপাদানের অর্ধেকের বেশি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে স্বল্প সময় ও কম তাপে রান্নার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ইলিশে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি
অনেকের সামুদ্রিক মাছ, বিশেষ করে ইলিশে অ্যালার্জি দেখা যায়। এর পেছনে রয়েছে হিস্টিডিন নামক অ্যামিনো অ্যাসিড, যা এল-হিস্টিডিন ডিকার্বোক্সিলেজ এনজাইমের কারণে হিস্টামিনে রূপান্তরিত হয় এবং অ্যালার্জি সৃষ্টি করে। সঠিক নিয়মে সংরক্ষণ না করলে এই হিস্টামিন তৈরি হয়ে থাকে। তাই ইলিশ মাছ সংরক্ষণে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএএম