প্রকাশ: শনিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৫, ১১:২৩ AM

সংগৃহীত ছবি
হঠাৎ করে বসা বা শোয়া থেকে দাঁড়ালে মাথা ঘোরা, ঝাপসা দেখা বা দুর্বল লাগার মতো অনুভূতি দেখা দেয় আমাদের অনেকেরই। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন’ বা ‘পোস্টুরাল হাইপোটেনশন’ বলা হয় ।
এই সমস্যা মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয় বলে সাধারণত এটি নিয়ে আমরা তেমন মাথা ঘামাই না। কিন্তু এই সমস্যাকে একেবারেই অবহেলা করা ঠিক নয়।
কেন হয়
আমরা যখন শুয়ে বা বসে থাকি, তখন অভিকর্ষজ বলের প্রভাবে রক্ত কিছুটা পা ও পেটের দিকে জমা হয়। অনেকক্ষণ একইভাবে থাকায় শরীর এই অবস্থার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেয়। হঠাৎ এ অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়ালে শরীর নিজের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া চালু রাখতে তৎক্ষণাৎ কিছু কাজ করে, যাতে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু হুট করে দাঁড়ালে মাথা ও হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত কিছুক্ষণের জন্য নিচের দিকে চলে আসে। ফলে মস্তিষ্ক ও হৃৎপিণ্ডে হুট করে রক্তের অভাব দেখা দেয় এবং তখনই রক্তচাপ কমে গিয়ে মাথা ঘোরায়।
প্রতিরোধে কী করবেন
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশনের জন্য ওষুধের প্রয়োজন হয় না। জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এবং ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করেই এই সমস্যা মোকাবিলা করা যায়।
ধীরে ধীরে উঠুন: শোয়া বা বসা থেকে উঠে দাঁড়ানোর সময় তাড়াহুড়া করবেন না। প্রথমে কিছুক্ষণ বিছানার পাশে বা চেয়ারে বসে থাকুন, তারপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ান। এতে শরীর দুটি অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে।
পর্যাপ্ত পানি খান: সারা দিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও তরল খেয়ে শরীর সতেজ রাখুন। পর্যাপ্ত পানি রক্তনালিতে রক্তের সবকিছু স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। ফলে রক্তচাপও কমে যাওয়ার আশঙ্কা কমে।
ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন: দৈনন্দিন প্রয়োজনে তিন বেলা ভারী খাবার খেতেই হয়। কিন্তু চেষ্টা করুন পেট ভরে না খেয়ে কিছুটা খালি রাখতে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে হজমের জন্য অন্ত্রে রক্তপ্রবাহ বেড়ে যায়। ফলে শরীরের অন্যান্য অংশে রক্তপ্রবাহ কমে যায়, ফলে খাওয়ার পর উঠে দাঁড়ালেও মাথা ঘোরায়।
নিয়মিত ব্যায়াম: প্রতিদিন নিয়ম করে যতটুকু সম্ভব ব্যায়াম করুন। এতে শরীরের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকবে, এমনকি এ ধরনের সমস্যাও কমে আসবে।
চিকিৎসকের পরামর্শ
মাঝেমধ্যে রক্তচাপ কমে যাওয়া তেমন কোনো চিন্তার কারণ নয়। তবে এ ঘটনা যদি ঘন ঘন হয়, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ, নিয়মিত রক্তচাপ কমে যাওয়া হতে পারে বড় কোনো রোগের লক্ষণ।
সূত্র: হার্ভার্ড হেলথ
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএএম