
সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র জাতীয় সমাবেশ। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লাখো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে উদ্যান ও আশপাশের এলাকা।
সমাবেশ শুরু হওয়ার ৬ ঘণ্টা আগেই লাখো মানুষে ভরে যায় সমাবেশস্থল। অনেকেই শুক্রবার রাত থেকেই অবস্থান নিতে শুরু করেন। ফজরের নামাজের পর থেকেই ট্রেন, বাস ও লঞ্চযোগে ঢাকায় আসা কর্মীরা মিছিল সহকারে সোহরাওয়ার্দীতে ঢুকতে থাকেন। অনেকে হাতে দলের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা, গায়ে ছিল জামায়াতের মনোগ্রামসংবলিত টি-শার্ট ও পাঞ্জাবি।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থেকে আগত সোহেল হাসান জানান, আমাদের উপজেলা থেকে ৪০টি বাসসহ প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এসেছে।
সিরাজগঞ্জ থেকে আসা এরশাদ আলী বলেন, ‘ট্রেন ও বাসে করে আমরা ৩০–৪০ হাজার নেতাকর্মী এসেছি।’
সমাবেশ নির্বিঘ্ন করতে ২০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক সারাদেশ থেকে এনে বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন। শুধু উদ্যান ও আশপাশ এলাকায় আছে ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। তারা হাইকোর্ট, শাহবাগ, মৎস্য ভবন, টিএসসি, দোয়েল চত্বরসহ বিভিন্ন স্পটে অবস্থান নিয়েছে।
মৎস্যভবন স্পটের স্বেচ্ছাসেবক টিমের প্রধান মাসুদুর রহমান বলেন, ‘সমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের কর্মীদের সহযোগিতা করাই আমাদের উদ্দেশ্যে। পুরো রাজধানী জুড়ে আমাদের ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছে। শুধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশে ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে ভোর থেকে বিভিন্ন জায়গা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী প্রবেশ করতে দেখা গেছে জামায়াতের নেতাকর্মীদের।’
সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ জাতীয় সমাবেশ করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ, সব গণহত্যার বিচার, প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার, ‘জুলাই সনদ’ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন, সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন ও এক কোটিরও বেশি প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ।
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এককভাবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ করছে দলটি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম