
সংগৃহীত ছবি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “মুক্তিযোদ্ধা বনাম রাজাকার” বিভাজনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা জাতিকে বিভক্ত করেছিলেন। মুজিববাদী আদর্শ গত ৫০ বছর ধরে দেশকে বিভাজনের মধ্যে রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকেলে ভোলা প্রেস ক্লাব চত্বরে অনুষ্ঠিত “জুলাই পদযাত্রা” সমাবেশে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, “২০২৪ সালের ১৪ জুলাই শেখ হাসিনা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের রাজাকারের নাতিপুতি বলে যে কটূক্তি করেছিলেন, তার প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ রাজপথে নেমে এসেছিল। সেই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন সাহসী ছাত্রীরা। পরদিন তাদের ওপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা নির্মম হামলা চালায়। কিন্তু তারা দমে যায়নি—বরং গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলে।”
নাহিদ বলেন, “সেই প্রতিরোধে শুধু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, শিক্ষক, শ্রমিক, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষও একাত্ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল। গণপ্রতিরোধের মুখে হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।”
ভোলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, “যেখানে ভোলা দেশের অন্যতম গ্যাস সরবরাহকারী জেলা, সেখানে এখানকার মানুষ গ্যাস সুবিধা থেকে বঞ্চিত। হাসপাতালগুলো অকার্যকর। ভোলাবাসীকে তথ্যপ্রযুক্তির যুগেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। আমরা সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে আপন করে নিতে এসেছি। আজ থেকে এই দূরত্ব আর থাকবে না।”
সভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, কেন্দ্রীয় সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) আব্দুল্লাহ আল মামুন ফয়সাল, সদস্য হাসিব আর রহমান এবং শহীদ মো. হাসানের পিতা মো. মনির হোসেন।
সমাবেশের আগে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ কালিবাড়ি মোড় থেকে পদযাত্রা শুরু করেন। পথিমধ্যে সদর রোড, কালিনাথ রায়ের বাজার, ইলিশ ফোয়ারা হয়ে প্রেস ক্লাব চত্বরে এসে পদযাত্রার সমাপ্তি ঘটে।
সভা পরিচালনা করেন মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। পদযাত্রায় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, নাহিদা সারওয়ার নিভা, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।