প্রকাশ: সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫, ৯:২৫ AM

সংগৃহীত ছবি
ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গাজা উপত্যকায় নিহতের সংখ্যা ৫৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। রবিবার গাজা শহরের একটি ব্যস্ত বাজার এবং মধ্য গাজার নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে একটি পানি বিতরণ কেন্দ্রে হামলায় অন্তত ৯৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, গাজার একটি বাজারে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বিশিষ্ট ফিলিস্তিনি চিকিৎসক আহমেদ কান্দিল।
একই দিনে নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে পানির জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুদের ওপর চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন অন্তত ১০ জন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৭ জন। চিকিৎসা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের অধিকাংশই শিশু।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ হামলার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও তারা দাবি করেছে, নুসাইরাতে হামলার লক্ষ্য ছিল একজন ফিলিস্তিনি যোদ্ধা। তবে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে এই দাবি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গাজায় পানির সংকটের মধ্যেই এসব প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে। জ্বালানির ঘাটতির কারণে অধিকাংশ পানি পরিশোধন ও পয়ঃনিষ্কাশন কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও নারী, সীমিতসংখ্যক পানি সরবরাহ কেন্দ্রে ঝুঁকি নিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর এ পর্যন্ত গাজায় মারা গেছেন ৫৮ হাজার ২৬ জন, যাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ জন।
জাতিসংঘের মতে, এই দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এবং অবরোধের ফলে গাজার প্রায় ২১ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। অব্যাহত বোমাবর্ষণ, খাদ্য ও পানি সংকট, স্বাস্থ্যসেবার অভাব—সব মিলিয়ে সেখানে চলছে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর