প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই, ২০২৫, ৩:৫৫ পিএম

এবছর আষাঢ়ের শুরুতেই দামুড়হুদা উপজেলায় বৃষ্টিপাত বেড়ে যাওয়ায় ছাতা মেরামতের চাহিদাও বেড়েছে।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার মতোই চারদিকে এখন বর্ষার ছোঁয়া- “এমন দিনে তারে বলা যায়, এমন ঘনঘোর বরিষায়…”। প্রকৃতিতে চলছে আষাঢ় মাসের বর্ষা। আষাঢ় ও শ্রাবণ- এই দুই মাস মিলে বর্ষাকাল। এবছরের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত জনজীবনকে বিপর্যস্ত করেছে।
দামুড়হুদা উপজেলাতেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পেতে মানুষ ছুটছে ছাতা মেরামতের দোকানে। পুরোনো ছাতাগুলো মেরামত করতে কারিগরদের কাছে ভিড় করছেন ক্রেতারা।
কুড়ুলগাছি বাজার, দর্শনা পৌর বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছাতা মেরামতের দোকানগুলোতে এখন প্রচণ্ড ব্যস্ততা। কেউ কেউ নাওয়া-খাওয়া ভুলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছেন।
কার্পাসডাঙ্গা বাজারের কারিগর কাশেম শাহ বলেন, “প্রায় ২৫ বছর ধরে এই
পেশাতে আছি। টানা বৃষ্টির কারণে এখন কাজ বেড়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার থেকে
১২০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। তবে বর্ষা ছাড়া অন্য সময় তেমন কাজ থাকে না।”
দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডের ছাত্রী ছাউনিতে ছাতা মেরামতে ব্যস্ত শুকুর আলী বলেন, “বৃষ্টির দিনে কাজ অনেক বেশি হয়। এই সময় দিনে গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়।”
দর্শনা বাজারে ছাতা মেরামতের কারিগর শাহেদ আলী বলেন, “এই সময়টা খুব ব্যস্ত। কথা বলারও সময় থাকে না। প্রতিদিন প্রায় ৮০০ টাকার মতো ইনকাম হয়।”
কার্পাসডাঙ্গার বাসিন্দা আতিয়ার রহমান বলেন, “ছেলেমেয়েরা স্কুল ও কোচিংয়ে যায়। কয়েকদিন আগে বাতাসে ছাতার শিক ভেঙে গেছে। তাই ছাতা ঠিক করাতে এসেছি।”
এবছর আষাঢ়ের শুরুতেই দামুড়হুদা উপজেলায় বৃষ্টিপাত বেড়ে যাওয়ায় ছাতা মেরামতের চাহিদাও বেড়েছে। অনেক কারিগর, যারা অন্য সময় বিভিন্ন পেশায় যুক্ত থাকেন, তারাও বর্ষা এলেই ফিরে আসেন পুরনো এই পেশায়।
বৃষ্টির দিনে নষ্ট ছাতা নিয়ে মানুষ ভিড় করছেন এসব কারিগরের দোকানে। আর তারাই বর্ষার ছায়া হয়ে উঠেছেন জনজীবনের জরুরি অংশে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ এমএএম