
সংগৃহীত ছবি
কেউ শুয়ে আছে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ফ্লোরে, কেউ অভিভাবকের কোলে, কারো চলছে স্যালাইন। পাশে উৎকণ্ঠায় স্বজনরা। খেলার সময় ঘাস মারা কীটনাশক বোতল থেকে নলকূপের পানিতে মিশিয়ে খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে ৩ থেকে ৯ বছর বয়সী ছয় শিশু।
চলতি বছরের ২২ এপ্রিল বিকালে ঝিনাইদহের হরিনাকুণ্ডু উপজেলার কাচারীতলা গ্রামে ঘটে এ ঘটনা। এর কিছুদিন পর, ৪ মে বিকালে সদর উপজেলার মুরারীদহ গ্রামে তারপিন পান করে অসুস্থ হয় তিন বছর বয়সী দুই শিশু। এভাব প্রায় প্রতিমাসেই ২৫ থেকে ৩০ জন শিশু বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানা যায়।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঝিনাইদহে শিশুদের শরীরে বিষক্রিয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। যত্রতত্র কীটনাশক ও বিষাক্ত দ্রব্য সংরক্ষণ।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঘরের দরজার পাশে, শিশুদের নাগালের
মধ্যে রাখা হচ্ছে কীটনাশক, তারপিন, কেরোসিনসহ নানা বিষাক্ত পদার্থ। ক্ষেতের
ধারে, রাস্তার পাশে কিংবা নলকূপের কাছে ফেলে রাখা হচ্ছে ব্যবহৃত বোতল।
কোমল পানীয় ভেবে বা রঙিন বোতলে আকৃষ্ট হয়ে শিশুরা খেলাচ্ছলে কিংবা তৃষ্ণায়
তা পান করে ফেলছে। এতে শিশুদের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য জটিলতা দেখা
দিচ্ছে। বিশেষ করে গরমের সময় এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
অভিভাবকদের অসচেতনতাকে দায়ী করে চিকিৎসকরা বলেন, “এখনই সতর্ক না হলে তা দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক জটিলতা এমনকি শিশু মৃত্যুর কারণও হতে পারে।”
কৃষক ও স্থানীয়রা বলছেন, “মাঠে কাজ করার সময় তারা কীটনাশকের বোতল পাশে রেখে দেন। অনেক সময় শিশুদের নজরে পড়ে গেলে তারা তা জুস ভেবে পান করে ফেলে।”
এক অভিভাবক বলেন, “শিশুদের বাঁচাতে বাড়িতে কোনো ধরনের বিষাক্ত জিনিস নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হবে। এমন দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
সংগঠক ও গবেষক সুজন বিপ্লব বলেন, “গ্রামে কীটনাশক প্রায়ই খোলা জায়গায় রাখা হয়। এই অসতর্কতার কারণে শিশুরা ভুল করে এগুলো পান করে ফেলতে পারে। আমাদের উচিত নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা এবং অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়া। একইসঙ্গে সরকারিভাবে জনসচেতনতা তৈরিতে ক্যাম্পেইন করা উচিত।”
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, ২০২৪ সালে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ২৮৯ জন শিশু। ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছে আরও ১২৩ জন। তবে এখন পর্যন্ত বিষক্রিয়াজনিত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।