
সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর মহাখালীর হোটেল জাকারিয়া ইন্টারন্যাশনালে হামলার ঘটনায় যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা মনির হোসেনসহ অন্তত ১২ জনকে খুঁজছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যে অভিযুক্তদের শনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পরই অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যায়। এর ফলে তাদের গ্রেপ্তার করতে বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বনানী থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম তাদের অবস্থান শনাক্তে মাঠে কাজ করছে। পুলিশ বলছে, হামলার ঘটনায় যেসব ফুটেজ সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা পর্যালোচনা করেই ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। মামলার এজাহারে মনিরের চার সহযোগী—লিটন (৩০), হাসান (৩৫), সামু (৩২) ও জহির (৩০)—এর নামও রয়েছে।
তবে মনির হামলার সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন কিনা, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো প্রমাণ মেলেনি। যদিও হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, মনির হোসেনের নেতৃত্বেই ৩০ জনের একটি দল হামলা চালাতে আসে। হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া অন্তত চারজনকে সিসিটিভিতে শনাক্ত করা গেছে।
হামলার সময় বারটির দুই নারী কর্মী—যারা ওই বারে নৃত্য পরিবেশন করতেন—তাদেরও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, শাড়ি পরা এক নারী সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে গেলে এক ব্যক্তি তাকে ধাক্কা দেন, এতে তিনি পড়ে যান। তার পেছনে থাকা আরেক নারীকে পেছন থেকে ধাওয়া করে ফেলে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর বুধবার হোটেল কর্তৃপক্ষ বনানী থানায় মামলা দায়ের করে। মামলায় উল্লেখ করা হয়, ৩০ জুন রাত ৮টার দিকে মনির হোসেন হোটেলের বারে এসে একটি ভিআইপি কক্ষ চান। কক্ষ না পেয়ে ক্ষুব্ধ মনির ছাড় দাবি করেন এবং বিদায় নেওয়ার সময় হুমকি দিয়ে যান। পরদিন রাত পৌনে ৯টার দিকে ২০-২৫ জনের একটি দল হোটেলে হামলা চালায়। মনিরের সহযোগী লিটন তখন বলেন, “মনির ভাইকে অসম্মান করা হয়েছে, আমরা তার লোক”—এই বলে শুরু হয় ভাঙচুর, লুটপাট ও হামলা।
হামলাকারীরা হোটেলের ক্যাশ কাউন্টার থেকে ৭০ হাজার টাকা, অফিস রুম থেকে আনুমানিক পাঁচ লাখ টাকার মদ ও বিয়ার লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় বারের কর্মীরা বাধা দিতে গেলে তাদের মারধর করা হয়।
বনানী থানার ওসি মো. রাসেল সরোয়ার বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর আসামিরা স্থান পরিবর্তন করতে শুরু করে। তাদের খুঁজে পেতে আমাদের সময় লাগছে। তবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আশা করছি দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনতে পারব।”
এদিকে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এমন পরিস্থিতিতে মনির হোসেনকে যুবদলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠন থেকে বহিষ্কার করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মনির হোসেন দীর্ঘদিন ধরেই মহাখালী এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। সরকার পতনের পর তিনি এলাকায় চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেন। মহাখালীর কাঁচাবাজার ও রাস্তাঘাটের দুই পাশের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে তার ক্যাডার বাহিনী। এ বছরের ২০ জানুয়ারিতেও জল খাবার রেস্টুরেন্টে হামলা ও লুটের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পুলিশ হামলার শিকার দুই নারী কর্মীর খোঁজ করছে। তাদের মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। হোটেল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে, যেন ভুক্তভোগী দুই নারী থানায় অভিযোগ করেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর