মা-বাবার বিচ্ছেদের জন্য নিজেকেই দায়ী মনে হতো...

সংগৃহীত ছবি
মাত্র ছয় বছর বয়সেই মনে হয়েছিল, তার কারণেই বাবা-মায়ের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। আর সেই বেদনা আরও গভীর হয়, যখন বনি কাপুরের দ্বিতীয় স্ত্রী শ্রীদেবীর কোলে আসেন প্রথম সন্তান জাহ্নবী কাপুর। বলিউড প্রযোজক বনি কাপুর ও তার প্রথম স্ত্রী মোনা শৌরির মেয়ে অংশুলা কাপুরের জীবনে শৈশবেই ছায়া ফেলে এই পারিবারিক ভাঙন।
পিংকভিলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অংশুলা বলেন, “ছয় বছর বয়সে ভাবতাম, আমার জন্মের আগেই হয়তো ওদের জীবনটা দারুণ চলছিল। আমি আসার পরই সব বদলে গেল। মনে হতো, হয়তো আমি ভালো মেয়ে নই। এই অনুভূতি আরও প্রবল হয়ে ওঠে, যখন জাহ্নবী জন্মায়। তখন ভাবতাম, নিশ্চয়ই আমার মধ্যেই কোনো ভুল ছিল।’’
অংশুলা জানান, তার বাবা-মা দুজনেই তাকে স্পষ্ট করে বোঝান যে তাদের আলাদা হয়ে যাওয়ার পেছনে তার কোনো দোষ নেই। তবু মানসিকভাবে সেই সময় তাকে বেশ প্রভাবিত করে। ‘এখন আর আমি সেটা বিশ্বাস করি না। তবে একটা ছোট্ট মেয়ে হিসেবে তখন বুঝতে চাইছিলাম, আসলে কোথায় ভুল হয়েছিল। তখন মনে হয়েছিল, হয়তো আমার পক্ষ থেকেই সব ভুল হয়েছিল। এত অল্প বয়সে মানসিক প্রক্রিয়া একেবারেই আলাদা,’ বলেন তিনি।
অংশুলা আরো জানান, অনেক সময়েই কাছের আত্মীয় বা বন্ধুদের কথোপকথনের কিছু অংশ শুনেই ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। তার ভাষ্যে, ‘হয়তো কোনো আন্টি বা বন্ধুর সঙ্গে কথার টুকরা শুনে আমার ছোট মাথায় একটা পুরো গল্প দাঁড় করিয়েছিলাম। সেটাও ছিল আমার ট্রমার একটা দিক। পরে আমি এটা আমার ভাই-বোন, বাবা-মা ও পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেছি।’
এর আগেও ‘হটটারফ্লাই’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অংশুলা বলেছিলেন, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর তাকে জনসমক্ষে নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল। ‘মানুষ আমার পারিবারিক মূল্যবোধ, বড় হওয়ার পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছিল। আমি তখন নিজেকে খোলসবন্দী করে ফেলি। নতুন বাস্তবতাকে বোঝার চেষ্টা করছিলাম,’ বলেছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, তারকা পরিবারের মেয়ে হয়েই অংশুলা বরাবরই পাদপ্রদীপের আলো থেকে নিজেকে দূরে রাখেন। সর্বশেষ অ্যামাজন প্রাইমের রিয়েলিটি শোতে দেখা গেছে তাকে।
প্রসঙ্গত, ১৯৮৩ সালে বনি কাপুর বিয়ে করেন মোনা শৌরিকে। তাদের ঘরে আসেন ছেলে অর্জুন কাপুর ও মেয়ে অংশুলা কাপুর। ১৯৯৬ সালে তারা আলাদা হয়ে যান। ওই বছরই বনি বিয়ে করেন বলিউড অভিনেত্রী শ্রীদেবীকে। পরের বছর, ১৯৯৭ সালে জন্ম হয় তাদের প্রথম সন্তান জাহ্নবী কাপুরের। এরপর আরও এক কন্যা, খুশি কাপুরের জন্ম হয়।