প্রকাশ: শনিবার, ৫ জুলাই, ২০২৫, ৪:১৩ পিএম

এক সময় ‘এক সন্তান নীতি’ চালু করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছিল চীন। কিন্তু বর্তমানে উল্টো পরিস্থিতির মুখোমুখি দেশটি- জন্মহার কমে যাওয়ায় সমাজ ও অর্থনীতিতে দেখা দিয়েছে নানান সংকট। এই অবস্থায় জন্মহার বাড়াতে এবার চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন সরকার।
চীনা দম্পতিদের সন্তান জন্ম দিলে এবার থেকে মিলবে সরাসরি নগদ অর্থ। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য স্ট্রেইট টাইমস জানিয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে চীনের যেসব দম্পতি সন্তান জন্ম দিয়েছেন, তাদেরকে বছরে একবার ৩ হাজার ৬০০ ইউয়ান (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭৮ হাজার ৪৮৪ টাকা) দেওয়া হবে। এই ভাতা সন্তান তিন বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত চালু থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তান লালন-পালনের ব্যয় ও কর্মজীবনের চাপে অনেক চীনা দম্পতি সন্তান নিতে আগ্রহ হারিয়েছেন। সরকার তাই নগদ সহায়তার মাধ্যমে পরিবারগুলোকে সন্তান নিতে উৎসাহিত করতে চাচ্ছে।
চীনের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১৪১ কোটি। একসময় বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশ থাকলেও ২০২৩ সালে সেই স্থান দখল করে নেয় ভারত।
চীনে জন্মহার হ্রাস পেতে শুরু করে ২০১০ সালের পর থেকে। এ কারণে লিঙ্গ ভারসাম্যহীনতা, বৃদ্ধ জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও কর্মক্ষম মানুষের ঘাটতি- এসব সংকট ঘনীভূত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এক সন্তান নীতি ২০১৬ সালে বাতিল করে দুই সন্তান, পরে ২০২১ সালে তিন সন্তান নীতি চালু করে সরকার। কিন্তু তা কার্যকর হয়নি।
টানা তিন বছর ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে- দেশটি রেকর্ড নিম্ন জন্মহার দেখেছে। ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে চীনের জনসংখ্যা ১৩০ কোটিতে এবং ২১০০ সালের মধ্যে তা ৮০ কোটিতে নেমে আসতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
চীনের এই পদক্ষেপ জন্মহার বাড়াতে কতটা কার্যকর হয়, তা সময়ই বলে দেবে।
সূত্র: দ্য স্ট্রেইট টাইমস
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম