প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ জুলাই, ২০২৫, ৬:৩২ পিএম আপডেট: ০৪.০৭.২০২৫ ৬:৫৬ PM

ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত ঐতিহ্যবাহী বলারাম কুটির।
নরসিংদীর বেলাব উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে অবস্থিত ঐতিহাসিক বলারাম কুটির বর্তমানে পরিণত হয়েছে একটি নিস্তব্ধ ও ভয়াল পরিবেশঘেরা ভূতুড়ে বাড়িতে। একসময় উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গের পদচারণায় মুখর এই বাড়িটিতে এখন শুধুই ঝোপঝাড়, লতাগুলো আর ধ্বংসের করুণ চিত্র।
দেড়শ বছরের পুরোনো ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই ভবনটি এখন পড়ে আছে অবহেলিত ও পরিত্যক্ত অবস্থায়। বাড়িটির চারপাশজুড়ে ছড়িয়ে আছে ঘন আগাছা, জঙ্গল, কাঁটাঝোপ ও বিষাক্ত লতা। ভেতরে আশ্রয় নিয়েছে সাপসহ নানা বিপজ্জনক প্রাণী।
স্থানীয়রা জানান, তাদের কাছে ‘বলরাম শাহের বাড়ি’ নামে পরিচিত এই ভবনের আঙিনায় এক সময় যাতায়াত করতেন তৎকালীন সময়ের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। বিশাল আকৃতির দোতলা এই কুটিরটি ছিল সুশ্রী নকশা ও নিখুঁত কারিগরির এক অনন্য নিদর্শন।
তবে, কালের পরিক্রমায় বাড়িটির মূল গেটের উপরে থাকা “বলারাম কুটির” নামফলক এখনো স্মরণ করিয়ে দেয় তার গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে। তবে এখন সেই নামফলক ঢাকা পড়ে যাচ্ছে লতার চাপে। দেওয়ালের পলেস্টার খসে পড়ছে, কাঠের দরজা জানালা গুঁড়িয়ে যাচ্ছে, ছাদ থেকে ঝুলছে আগাছার শিকড়।মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত নিদর্শন এই বাড়িটি শুধু প্রাচীন স্থাপত্যই নয়, বয়ে নিয়ে চলছে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বলারাম কুটির ছিল এক নীরব সাক্ষী। অনেক গোপন বৈঠক, রাত্রিযাপন এবং আশ্রয়ের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এই কুটির, এমনটিই জানান স্থানীয় প্রবীণরা।
উল্লেখ্য, বেলাব উপজেলার ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত নিদর্শন এই বলারাম কুটির। অথচ যথাযথ সংরক্ষণ ও দেখভালের অভাবে ভবনটি আজ ধ্বংসের মুখে।
স্থানীয়দের দাবি, এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি যেন সরকারিভাবে সংরক্ষণ করা হয়। এটি যদি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করে পর্যটনের আওতায় আনা যায়, তাহলে তা হতে পারে বেলাব উপজেলার গর্ব এবং নতুন প্রজন্মের ইতিহাস জানার কেন্দ্র।
ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বুকে ধারণ করা বলারাম কুটির এখন নিঃসঙ্গ ও বিলুপ্তির পথে। প্রয়োজন শুধু যথাযথ উদ্যোগ, প্রশাসনিক নজরদারি এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ। নইলে অচিরেই বিলীন হয়ে যাবে ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।