
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ও চর শৌলমারী ইউনিয়নের মধ্যবর্তী কাজাইকাটা এলাকায় হলহলিয়া নদীর উপর ব্রীজ না থাকায় অন্তত ২৫ টি গ্রামের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে সেই দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, কাজাইকাটা, খোয়ারচর, খরানি, চৌদ্দঘরি, আমবাড়ি, চর কাউনিয়ারচর, নামাজের চরসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ প্রতিদিন শিশু, বৃদ্ধ, রোগী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ নিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন একটি বাঁশ ও কাঠের অস্থায়ী সাঁকো দিয়ে। স্থানীয়দের উদ্যোগ ও স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি এই সাঁকো বর্ষায় প্রায়ই ভেঙে পড়ে, আর দুর্ঘটনাও ঘটে হরহামেশা।
স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ফসল উৎপাদন করি, কিন্তু ঠিকমতো বাজারে নিতে পারি না। রোগী নিতে গেলে ভয় থাকে, কখন সাঁকো ভেঙে পড়ে যায়। আমাদের জোর দাবি, এখানে দ্রুত একটি পাকা ব্রীজ নির্মাণ করা হোক।’
একই দাবি জানিয়ে গাড়িচালক সোহেল বলেন, ‘ব্রীজ না থাকায় গাড়ি চালাতে পারি না, আয় তো দূরের কথা, উল্টো খরচ বাড়ে। ফসলও পারাপার করা যায় না।’
চর শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কেএইচএম সাইদুর রহমান দুলাল বলেন, ‘ব্রীজ নির্মাণের দাবি একাধিকবার উপজেলা সমন্বয় মিটিংয়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দেয়নি। স্বাধীনতার এত বছর পরও একটি ব্রীজের জন্য মানুষকে মানববন্ধন করতে হচ্ছে- এটা লজ্জার। দ্রুত স্থায়ী একটি ব্রীজ নির্মাণ হোক, এটাই এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি।’
এই দুর্ভোগ নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কিংবা উপজেলা প্রকৌশলীর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। উপজেলা প্রকৌশলী মো. মুনছুরুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জল কুমার হালদার জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি খোঁজ নিচ্ছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি নজরদারি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের বাইরে থাকা এই অঞ্চলের মানুষের একটিই চাওয়া- একটি টেকসই ও স্থায়ী ব্রীজ। যেটা তাদের চলাচল, ব্যবসা, কৃষিকাজ ও জরুরি সেবাগুলো সহজ করবে। এলাকাবাসীর ভাষায়, এটা আর বিলাসিতা নয়, জীবন বাঁচানোর প্রয়োজন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম