প্রকাশ: সোমবার, ৩০ জুন, ২০২৫, ৩:৪৭ পিএম আপডেট: ৩০.০৬.২০২৫ ৪:০৩ PM

সমকামিতার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক চাকরিচ্যুত
সমকামিতা ও শিক্ষার্থী হেনস্তায় অভিযুক্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহাকারী অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (৩০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মনজুরুল হকের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, ‘হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনা করে গত ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ২৬৬ তম সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলাবিধির ধারা ৪ (আই) (বি) ও ধারা ৫ ধারা অনুযায়ী তার বাৎসরিক একটি ইনক্রিমেন্ট বাতিল করা হয় ও তাকে সিন্ডিকেট সভার তারিখ থেকে এক বছরের বাধ্যতামূলক ছুটি প্রদান করা হয়।
সেই সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানালে তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ২৬৭ তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিষয়টি পুনরায় ব্যাপক তদন্তের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশে গত ৩১ মে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ২৬৮ তম (সাধারণ) সভার ৭ নম্বর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী তদন্তের আলোকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও শৃঙ্খলার স্বার্থে তার এসব কর্মকাণ্ড ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলা বিধির পরিপন্থী। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলাবিধির ৪(১) (এফ) ধারা মোতাবেক তাকে ৩১ মে থেকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হলো।
এর আগে হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে সমকামিতায় বাধ্য করা, শিক্ষার্থীদের হেনস্তা ও যৌন হয়রানিসহ নানা অভিযোগ উঠলে গত বছরের ৮ অক্টোবর তদন্ত কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। ওই কমিটি জানায়, হাফিজের বিরুদ্ধে সমকামিতা, যৌন হয়রানি, শিক্ষার্থী হেনস্তাসহ নানা অভিযোগ দেন শিক্ষার্থীরা।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা মিললে গত বছরের ২৩ অক্টোবর তাকে বিভাগীয় সব রকম কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
২০২৩ বছরের ৭ অক্টোবর বিভিন্ন অভিযোগ তুলে শিক্ষক হাফিজুল ইসলামের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ করে বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষার্থীরা লিখিতভাবে উপাচার্যের কাছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অন্তত ২৭ টি অভিযোগ তুলে ধরেন এবং মৌখিকভাবে আরো বিভিন্ন অভিযোগ ও ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তাকে অপসারণের দাবি জানান।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম