প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫, ৮:৪৪ AM আপডেট: ২৬.০৬.২০২৫ ৪:২০ PM

বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম দূরপাল্লার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে পাকিস্তান। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক খ্যাতনামা সাময়িকী ফরেন অ্যাফেয়ার্স প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন উদ্বেগজনক দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক সক্ষমতা এবং সামরিক আগ্রাসন ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে উঠছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বরাতে জানানো হয়, পাকিস্তান যদি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) নির্মাণে সফল হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের আর দেশটিকে কেবল ‘আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী’ হিসেবে বিবেচনার সুযোগ থাকবে না- তাকে পরিণত করতে হবে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘পারমাণবিক প্রতিপক্ষ’-এ।
আরও পড়ুন
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি মূলত ভারতের সামরিক আধিপত্য ঠেকানোর জন্য। কিন্তু মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, পাকিস্তানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পটি শুধুমাত্র আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডকেও লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষমতা রাখে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান এই ধরনের সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে পরোক্ষভাবে সতর্ক বার্তা দিতে চাইছে- যদি যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রাগারে প্রতিরোধমূলক হামলার পরিকল্পনা করে, তবে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। পাশাপাশি, এই ক্ষমতা ভারতের সঙ্গে বিরোধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ ঠেকাতেও ব্যবহৃত হতে পারে।
ফরেন অ্যাফেয়ার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করতে পারে এমন কোনো দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব নয়। ফলে, পাকিস্তানের এমন ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ভবিষ্যতে ওয়াশিংটন-ইসলামাবাদ সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও পড়ুন
১৯৭০-এর দশকের গোড়ায় পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু হয়। বিশেষ করে ১৯৭৪ সালে ভারতের পারমাণবিক পরীক্ষা এই কর্মসূচিকে ত্বরান্বিত করে। ১৯৯৮ সালে ছয়টি সফল বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
বর্তমানে পাকিস্তানের অস্ত্রাগারে প্রায় ১৬৫টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে কৌশলগত পারমাণবিক বোমা ও স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। দেশটি এখন পর্যন্ত পরমাণু বিস্তার রোধ চুক্তি (NPT) এবং বিস্তৃত পরীক্ষা নিষেধ চুক্তি (CTBT)-তে স্বাক্ষর করেনি, যা তাদের ‘জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা অগ্রাধিকারের’ প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
চীন ও রাশিয়ার পাশাপাশি এখন পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে একাধিক ফ্রন্টে পারমাণবিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের এই সম্ভাব্য দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও কূটনীতিতে এক নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
সূত্র: ফরেন অ্যাফেয়ার্স
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম